জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা
বললেন রুহুল কবির রিজভী
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত ধারা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়েই এ দেশের মানুষ জুলাইয়ে আন্দোলনে নেমেছিল। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে তৎকালীন সরকার আবারও জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়। দেশকে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মানুষ ভয়ে কথা বলতে পারত না, রাস্তায় চলাচল করতেও ভয় পেত। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকরা রাজপথে নেমে আসে এবং গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে বাধ্য করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনার মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত ধারা। এই চেতনা ধারণ করেই দেশের মানুষ গণতন্ত্র বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছে।
তিনি বলে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে পায়। তার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ উন্নয়ন ও উৎপাদনে এগিয়ে যায়। খাল খনন, স্বনির্ভর কর্মসূচি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্বাক্ষরতা অভিযানের মধ্য দিয়ে জাতি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদের থাবার মধ্যে পড়বে না। দেশের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার অঙ্গীকার নিয়েই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয় খুঁজে পেয়েছিল। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের বাসায় গ্রেপ্তার করে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মুক্তি লাভ করেন। এতে জাতি আবার নতুন করে পথের দিশা পায়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে থাকেনি। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশের একজন মহান জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ককে হত্যা করা হয়। তবে ৭ নভেম্বরের মুক্তি, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার চেতনায় জাতি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে নয় বছরের দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতাকে আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ২০০৯ সালে পুরোনো বাকশালের নতুন প্রেতাত্মার আবির্ভাব ঘটে। পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার কেড়ে নেয় এবং দেশকে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি ক্ষমতায় আসার আগে জনগণকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছেন।
