হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

ফুটবল ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট। বল নিয়ে প্রতিপক্ষের দিকে ছুটছেন খেলোয়াড়। হঠাৎ গতি বাড়াতেই ঊরুর পেছনে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল! সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেলেন, মুখে প্রচণ্ড ব্যথার ছাপ। হাত দিয়ে ঊরুর পেছনটা চেপে ধরেই সটান শুয়ে পড়লেন! খেলার মাঠে এমন দৃশ্য খুব পরিচিত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের আঘাতকে বলা হয় হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেইন। পরামর্শ দিয়েছেন গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাকিব আল নাহিয়ান।
হ্যামস্ট্রিং ঊরুর পেছনে থাকা তিনটি প্রধান পেশির সমষ্টি। হাঁটু ভাঁজ করা, দৌড়ানো, লাফ দেওয়া এবং দ্রুত গতি পরিবর্তনের সময় এই পেশিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল ও অ্যাথলেটিকসের মতো খেলায় হ্যামস্ট্রিংয়ের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে।
পর্যাপ্ত ওয়ার্ম-আপ ছাড়া হঠাৎ দৌড় শুরু করা, দ্রুত গতি বাড়ানো বা কমানো, পেশির নমনীয়তা কমে যাওয়া, ঊরুর সামনের পেশি শক্ত হয়ে থাকা কিংবা নিতম্বের পেশি দুর্বল হলে হ্যামস্ট্রিং অতিরিক্ত চাপের শিকার হতে পারে। আগে একই জায়গায় চোট পেয়ে থাকলে আবার ইনজুরির ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রথম মাত্রায় হালকা পেশির টান, দ্বিতীয় মাত্রায় পেশির আংশিক অংশ ছিঁড়ে যাওয়া এবং তীব্র মাত্রায় ইনজুরি হলে পেশি বা টেন্ডন সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে পারে। আঘাতের সময় 'পপ' করে শব্দ বা তীব্র ব্যথা, হাঁটতে সমস্যা, দুর্বলতা এবং পরবর্তী সময়ে কালশিটে দাগ দেখা দিলে গুরুতর ইনজুরির আশঙ্কা আছে। প্রথমে ব্যথা ও ফোলা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। বিশ্রাম, ঠান্ডা সেঁক, কমপ্রেশন এবং আক্রান্ত পা কিছুটা উঁচু করে রাখা উপকারী। ব্যথা বেশি হলে সাময়িকভাবে ক্রাচ প্রয়োজন হতে পারে। কিছু গুরুতর ইনজুরিতে হাঁটুকে অতিরিক্ত প্রসারণ থেকে রক্ষা করতে চিকিৎসকের পরামর্শে নি ব্রেইস ব্যবহার করা হয়। তবে সব সময় ব্রেস বা দীর্ঘ সময় বিশ্রাম দরকার হয় না। ব্যথা কমার পর ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম ধাপে ধাপে করে পেশির নমনীয়তা ও শক্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।
