চবি শিক্ষার্থীর দুটি অ্যাপ তৈরি

ডাটা ছাড়া করা যাবে কাজ

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র না হয়েও ‘গুগল ট্রান্সলেটর ও অক্সফোর্ড থ্রি থাউজ্যান্ড ভোকাবুলারি ডিকশনারি’ অ্যাপস তৈরি করলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম। এর মধ্যে গুগল ট্রান্সলেটর অ্যাপসটি মোবাইল ডাটা ছাড়াই যে কোনো শব্দ ট্রান্সলেট করা যাবে। অ্যাপসটি গুগল ট্রান্সলেটর অ্যাপস থেকে এক মাসে ৫০,০০০ বার ডাউনলোড করা হয়েছে। বিশ্বের যে কোনো ভাষায় অনুবাদ করা যাবে এই অ্যাপসটি দিয়ে।

অ্যাপটির নাম ট্রান্সলেটর স্টুডিও: অফলাইন। এরই মধ্যে অ্যাপে যুক্ত হয়েছে নানা ফিচার। এর মধ্যে রয়েছে যে কোনো ভাষা থেকে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই অনুবাদ করা যাবে। এখানে নেই কোনো বাক্যের সীমাবদ্ধতা। টেক্সযুক্ত ইমেজকে টেক্সে কনভার্ট করা যাবে এবং সেটাকে যে কোনো ভাষায় অনুবাদ করা যাবে। আবার ভয়েস অনুবাদও করা যাবে। এছাড়া সব ভাষার প্রতিটি শব্দের সঠিক উচ্চারণ জানা যাবে। অনুবাদ করা টেক্সগুলো হিস্ট্রি সেকশনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা থাকবে এবং সেটা চাইলে পরবর্তীতে মুছে ফেলা যাবে।

আশরাফুল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ব্যবসায় প্রাশাসন অনুষদের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার আটলা গ্রামে। তার বাবা পেশায় কাঠমিস্ত্রি আর মা গৃহিণী।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি এই অ্যাপস তৈরির আগে একটা বই লিখেছিলাম। বই লেখা যখন শেষ হয়েছিল তখন করোনার সময় ছিল। ফেসবুক, বই পড়া ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। বই প্রকাশ হতে সময় লাগে।

একদিন ফেসবুক ব্যবহার করার সময় হঠাৎ ভাবলাম এই যে ফেসবুক থেকে শুরু করে গুগল প্লে স্টোরে যত অ্যাপস আছে এগুলো কোনো না কোনো মানুষ বানিয়েছে। এগুলো কীভাবে বানায়, কারা এখানে আসতে পারে, কারা এখানে আসতে পারে না। তখন আমার প্রশ্ন ছিল আমি পারব কি না? আমরা যারা বিজ্ঞানের ছাত্র না। এটা নিয়ে আমাকে ৬ মাস গবেষণা করতে হয়েছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও আমার ৬ মাস সময় লেগেছে সিদ্ধান্ত নিতে যে আমি পারব। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের তাকবির ভাই ও শরীফ ভাই আমাকে বিভিন্নভাবে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছে।

আশরাফুল ইসলাম আরও বলেন, আমি প্রথমে ইউটিউবে অ্যাপস তৈরি সম্পর্কিত অনেক ভিডিও দেখি। আমি চেষ্টা করছিলাম বাংলাতে কেউ গুগল ট্রান্সলেট করতে পারে কি না। কারণ যেহেতু আমি শিক্ষানবিশ সেহেতু আমার জন্য কষ্ট হয়ে যাবে যদি ইংরেজিতে করতে যাই। পরবর্তীতে ‘বঙ্গো’ প্লাটফর্মের নাম শুনলাম। সেখান থেকে মোটামুটি একটা ধারণা পেয়ে গেলাম। এভাবেই আমি কাজ শুরু করলাম। আশরাফুল বলেন, এই অ্যাপস তৈরির আগে আমি অক্সফোর্ড থ্রি থাউজ্যান্ড ভোকাবুলারি ডিকশনারি একটি অ্যাপস তৈরি করি। এখানে অক্সফোর্ডে রিসার্চ করা ৩০০০ ভোকাবুলারি রয়েছে। মূলত আমরা ইংরেজিতে কথা বলার সময় বা লেখার সময় ডিকশনারিতে থাকা সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করতে পারি না। দৈনন্দিন জীবনে আমরা সচরাচর যে শব্দগুলো ব্যবহার করি সেগুলো আমি বাংলা অর্থ ও উচ্চারণসহ এই অ্যাপসটি তৈরি করি। গুগল ট্রান্সলেটর অ্যাপস তৈরির ভাবনা কীভাবে আসে এমন প্রশ্নের উত্তরে আশরাফুল বলেন, আমি যখন ডিকশনারি অ্যাপসটি তৈরি করলাম। তখন আমি একদিন কম্পিউটার দোকানে একজনকে বিনয়ের সঙ্গে বললাম, ভাই, আমার একটা অ্যাপস আছে আপনি একটু ডাউনলোড করবেন? তারপর উনি বললেন, তোমার এই অ্যাপস দিয়ে তো শুধু শব্দগুলো দেখা যায়। এটা দিয়ে কি ট্রান্সলেট করা যায়? তারপর থেকেই আমি এই ‘গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপস’ তৈরির সিদ্ধান্ত নিই। অ্যাপস তৈরিতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যেহেতু আমি কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র না সেক্ষেত্রে আমাকে অনেক বেশি গবেষণা করতে হয়েছে। আশরাফুল ইসলাম তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, আমি যদি সঠিক গাইডলাইন ও কোনো ফান্ড পাই তাহলে বিশ্বব্যাপী যে অ্যাপসগুলোর চাহিদা আছে সেগুলো আমি তৈরি করতে সক্ষম হবো। এছাড়া কোনো কোম্পানিতে ইন্টার্নশিপ করতে পারি তাহলে আমার জন্য সুবিধা হবে।

উল্লেখ্য, অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে Translator Studio: Offline লিখে সার্চ করে ডাউনলোড করা যাবে।