
প্রায় ৩৩ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন পাথর কোয়ারি। এ অবস্থায় কোয়ারি পরিদর্শনে এসেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল। সিলেটের কানাইঘাটের লোভাছড়া পাথর কোয়ারি থেকে গত ৯ নভেম্বর তাদের পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন পাথর কোয়ারি পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার তাদের পরিদর্শন কার্যক্রম শেষ হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট জেলায় সব মিলিয়ে সাতটি পাথর কোয়ারি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, শাহ আরফিন ও উৎমাছড়া, গোয়াইনঘাটের জাফলং ও বিছনাকান্দি, জৈন্তাপুরের শ্রীপুর এবং কানাইঘাটের লোভাছড়া। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলায়ও বেশ কয়েকটি পাথর কোয়ারি রয়েছে। করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ এবং পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংসের অজুহাতে গত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ আছে। পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন হলেও কোয়ারি খুলে দেয়া হয়নি। সম্প্রতি সিলেট বিভাগীয় ট্রাক, পিকআপ কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বানে ৪৮ ঘণ্টার পণ্যপরিবহন ধর্মঘটও পালন করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ সব কোয়ারি ব্যবস্থাপনা ও হালনাগাদের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবরে একটি ডিও (ডেমি অফিস) লেটার দিয়েছেন। মন্ত্রীর চিঠি পাওয়ার পর পাথর কোয়ারি সরেজমিন পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গঠিত টিম।
প্রতিনিধি দলের ট্যুর শিডিউল অনুযায়ী, ৯ নভেম্বর তারা কানাইঘাটের লোভাছড়া পাথর কোয়ারি পরিদর্শন করেন। পরদিন গোয়াইনঘাটের জাফলং, বিছনাকান্দি ও জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর এবং ১১ নভেম্বর কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, কালাইরাগ, শাহ আরেফিন ও উৎমাছড়া পাথর কোয়ারি পরিদর্শন করেন। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তারা সুনামগঞ্জ জেলা সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন পাথর কোয়ারি পরিদর্শন করেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ভূমি জরিপ ম্যাপ অনুসারে হেঁটে স্পটগুলো ঘুরে দেখেন এবং দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকা কোয়ারিতে পাথরের মজুত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-টু অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মো. নায়েব আলী, বিএমডি খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান, জিএমবি ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর মিজানুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম রফিকুল ইসলাম। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট এলাকার পদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও তাদের সহযোগিতা করছেন। প্রতিনিধি দলের সদস্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-টু অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মো. নায়েব আলী জানান, পাথর কোয়ারিগুলো পরিদর্শন শেষে আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করব।