ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুরে ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘সিঁদল’

রংপুরে ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘সিঁদল’

সিঁদল। হঠাৎ করে এই নামটি শুনলে অপরিচিত মনে হতে পারে। কিন্তু সিঁদলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রংপুর অঞ্চলের খাবারের ঐতিহ্য। প্রাচীনকাল থেকেই সিঁদল রংপুর অঞ্চলের সুস্বাদু খাবার। যদিও বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেভাবে পৌঁছেনি সিঁদলের স্বাদ। রংপুর বিভাগের কমবেশি প্রতিটি পরিবারই সিঁদলের সঙ্গে পরিচিত। বিশেষ করে সিঁদল তৈরির সঙ্গে যে উপকরণ প্রয়োজন, তা যেন কারোই অপরিচিত নয়। এটি মূলত ছোট মাছের শুকনো শুঁটকি আর কচুর ডাটা দিয়ে তৈরি হয়। সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আদা, রসুন, হলুদ, সরিষার তেল, খাওয়ার সোডা আর এলাচও দিতে হয়। এটি মূলত মলা, ডারকা বা পুঁটি জাতীয় বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ দিয়ে তৈরি হয়। প্রথমে ছোট মাছগুলো ভালো করে ধুয়ে কুটে পরিষ্কার করে সপ্তাহখানেক কড়া রোদে শুকিয়ে শুঁটকি করে নিতে হয়। পরে মাছের শুঁটকিগুলো ঢেঁকিতে নয়তো উরুনগান (বড় আকারের কাঠের হামানদিস্তা) বা শিল-পাটায় আধা ভাঙা অর্থাৎ আধা গুঁড়ো করে নিতে হয়। আবার ব্লেন্ডারেও শুঁটকি আধা ভাঙা করে নিতে পারেন। শুঁটকি আধা ভাঙা করা শেষ হলে একই পরিমাণ সাদা মানকচু ও কালো কচুর শুধু ডাঁটা ধুয়ে নিয়ে কাঁচা অবস্থাতেই বাটতে হয়। কচু বাটার সঙ্গে মলা, ডারকা বা পুঁটি মাছের আধা ভাঙা গুঁড়া, প্রয়োজন মতো আদা, রসুন এবং কিছু পরিমাণ খাওয়ার সোডার মিশ্রণে ধীরে ধীরে সবকিছুর সঙ্গে মেশাতে হয়। সব মেশানো হয়ে গেলে হলুদ ও সরিষার তেল দিয়ে মেখে হাত দিয়ে গোল বা চ্যাপটা করে এক সপ্তাহ কড়া রোদে শুকাতে হয়। ডালা বা কুলায় জাল দিয়ে ঢেকে (যাতে কাক বা পাখি খেতে না পারে) শুকিয়ে এগুলো একটু শক্ত হয়ে গেলে তৈরি হয়ে যায় সিঁদল। অনেকে আবার মালা করে শুকিয়ে নেন। এভাবে তৈরি সিঁদল বহুদিন রেখে খাওয়া যায়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত