সিলেটে শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম হেলথ হ্যাকাথন
* এটিই দেশের প্রথম দেশব্যাপী আয়োজিত হেলথ হ্যাকাথন, যা তরুণ চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে উদ্ভাবনী সমাধান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটাতে সিলেটে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ ২০২৬’। গতকাল শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে এই হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হবে। ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশনস নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, এটিই দেশের প্রথম দেশব্যাপী আয়োজিত হেলথ হ্যাকাথন, যা তরুণ চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, মেডিকেল কলেজ ও স্টার্টআপ ইনকিউবেটরদের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো বাস্তবসম্মত উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন করা।
আয়োজক কমিটি আরও জানায়, এবারের হ্যাকাথনে অংশগ্রহণকারীরা ১০টি সুনির্দিষ্ট থিম নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন। যার মধ্যে অসংক্রামক রোগ শনাক্তকরণ, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, স্মার্ট পুষ্টি সমাধান, মিডওয়াইফ ক্ষমতায়ন এবং টেলিমেডিসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য বীমা, ডিজিটাল জনস্বাস্থ্য নজরদারি এবং স্বাস্থ্য পর্যটনের মতো আধুনিক বিষয়গুলো নিয়েও উদ্ভাবকরা তাদের মেধা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। প্রতিটি থিম এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন অংশগ্রহণকারীরা তাদের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান ব্যবহার করে স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান বের করতে পারেন।
পুরো প্রতিযোগিতাটি প্রিলিমিনারি, আঞ্চলিক ফাইনাল ও জাতীয় ফাইনাল- এই তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। সিলেট আঞ্চলিক পর্ব থেকে নির্বাচিত সেরা তিনটি দল সরাসরি ঢাকায় জাতীয় ফাইনালে অংশ নেবে। সেখানে দেশের আটটি বিভাগের সেরা বিজয়ীদের সঙ্গে চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামবে সিলেটের প্রতিনিধিরা।
জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার ও স্বীকৃতির পাশাপাশি থাকছে স্টার্টআপ ইনকিউবেশনের সুযোগ, যা তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়াগুলোকে ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে। এরইমধ্যে সিলেটের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আয়োজন ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা মনে করছেন, এই হ্যাকাথন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি বড় সুযোগ।
