সংসদে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদনের দাবি চিকিৎসকদের
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

তামাকজনিত রোগে মৃত্যুর লাগাম টানতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ দ্রুত অনুমোদন এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপের দাবি জানিয়েছেন দেশের তরুণ চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, আইন ও করনীতির সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। গতকাল শনিবার রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হলরুমে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। কর্মশালার শিরোনাম ছিল- ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদারে তরুণ চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততা : ২০২৬ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আসন্ন সংসদে অনুমোদন ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের করনীতি সংস্কার’।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন- ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী। তিনি বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। এই পরিস্থিতিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনে তরুণ চিকিৎসকদের অগ্রণী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন সংসদে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি দ্রুত অনুমোদনের আহ্বান জানান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন- ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি জানান, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। টোব্যাকো এটলাসের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সরকার জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করেছে। তবে এর বাস্তব সুফল পেতে হলে অধ্যাদেশটিকে দ্রুত আইনে রূপ দেওয়া জরুরি। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা তুন-নেসা মালিক বলেন, তামাক হার্ট অ্যাটাকসহ নানা প্রাণঘাতী হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ। হাসপাতালে প্রতিদিন এমন অসংখ্য রোগী আসছেন, যাদের অসুস্থতার মূল কারণ তামাক ব্যবহার। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ করা হলে পণ্যের দাম বাড়বে, তরুণদের মধ্যে তামাক গ্রহণ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ব্যয়ও হ্রাস পাবে। পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী তরুণ চিকিৎসকদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তরুণ চিকিৎসকরা বলেন, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই সরকার সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি করেছে। তারা মনে করেন, আসন্ন সংসদে অধ্যাদেশটি দ্রুত অনুমোদন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যে কার্যকর কর আরোপ করা গেলে তামাকপণ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নেওয়া সম্ভব হবে।
