ফ্ল্যাট ও জমির নিবন্ধন খরচ ৫০% কমানোর সুপারিশ
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্ল্যাট ও জমি কেনার নিবন্ধন খরচ ৫০ শতাংশ কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ফ্ল্যাট নিবন্ধনের সময় কর ও নিবন্ধন ফি জমা দিতে হয়। এই ধরনের নিবন্ধন খরচ ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনতে বলেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি। বর্তমানে ঢাকা মহানগরে জমি বা প্লট এবং ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় সাড়ে ১২ শতাংশ হবে। ১ কোটি টাকার সম্পদ নিবন্ধনে সাড়ে ১২ লাখ টাকা দিয়ে তা নিবন্ধন করতে হয়। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির নেতৃত্ব দেন। এই কমিটি গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া যেকোনো স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি উপহার দিলে বাজারমূল্যের ১ শতাংশ হারে কর কেটে রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে। বর্তমানে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান ও ভাই-বোন নিজেদের মধ্যে টাকা-পয়সাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দিলে কোনো কর বসে না। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ সম্পর্কে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সুপারিশগুলো ভালো। এনবিআর তথা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা একটি বড় ধরনের সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই কমিটির সুপারিশগুলো বিবেচনা করা হবে।
ফ্ল্যাট-প্লটের নিবন্ধন কর কত : বর্তমানে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তরে উৎসে কর ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৫ শতাংশ, অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ৩ শতাংশ এবং পৌরসভা পর্যায়ে ২ শতাংশ। এছাড়া জমি বা প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে উৎসে কর ছাড়াও দেড় শতাংশ স্ট্যাম্প শুল্ক, নিবন্ধন ফি ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ফি ৩ শতাংশ এবং ভ্যাট ২ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ আরোপ হয়। এর মধ্যে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট পর্যন্ত ২ শতাংশ এবং তার বেশি আয়তনের ফ্ল্যাটে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট। জমি বা প্লটে ভ্যাট ২ শতাংশ। তার মানে, ঢাকার গুলশানে ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের কম আয়তনের একটি ফ্ল্যাট নিবন্ধনে সাড়ে ১২ শতাংশ।
১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক মওকুফের সুপারিশ : ব্যাংকে থাকা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি। ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে থাকলে ৩ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক বসে। বর্তমানে ৩ লাখ টাকার বেশি টাকা থাকলে ন্যূনতম ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক বসে। এই সীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো ব্যাংক হিসাবে আমানত বা স্থিতির পরিমাণ যদি একবার তিন লাখ টাকা বা তার ওপরের স্তরগুলোর সীমা অন্তত একবার স্পর্শ করে, তাহলে নির্দিষ্ট হারে আবগারি শুল্ক দিতে হয়। একাধিকবার স্পর্শ করলেও একবারই আবগারি শুল্ক কাটা হয়।
ফেসবুকে ব্যবসাকে করের আওতায় আনা : ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনেকে ব্যবসা করেন। বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি করেন। তাঁদের করের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এফ-কমার্সকে করের আওতায় আনতে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি।
সারচার্জ ও ন্যূনতম কর : এছাড়া চার কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে আয়করের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে সারচার্জ দিতে হয়। জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি এই ধরনের সারচার্জ বাতিলের সুপারিশ করেছে। এছাড়া রিটার্ন জমার সময় করযোগ্য আয় থাকলে ন্যূনতম কর পাঁচ হাজার টাকা। এতে করমুক্ত আয়সীমার কিছুটা ওপরে থাকা ছোট ছোট করদাতাদের ওপর চাপ সৃস্টি হয়। ন্যূনতম কর দেওয়ার বিধান তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি।
একক ভ্যাট হারের সুপারিশ : মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় একাধিক হারের পরিবর্তে একক ভ্যাটহারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি। বর্তমানে ভ্যাটের মূল হার ১৫ শতাংশ হলেও বিভিন্ন খাতে তা কমিয়ে একাধিক স্তরে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বহুমাত্রিক হার কর ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে বলে মনে করে কমিটি।
