চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার আহ্বান ইউরোচ্যামের
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন করে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই স্থবিরতা দেশের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়াচ্ছে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। গতকাল শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ জানায়, কাজ বন্ধ থাকার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে হাজার হাজার কনটেইনার আটকে আছে এবং রপ্তানির নির্ধারিত সময়সূচি ভেঙে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি পরিচালনা করে এবং এটি রপ্তানিনির্ভর শিল্পগুলোর প্রধান প্রবেশদ্বার। স্বাভাবিক সময়ে এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ রপ্তানি কনটেইনার পরিবহন হয়। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অচলাবস্থার কারণে কনটেইনার চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহকারী ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রপ্তানি সময়সূচি ভেঙে পড়ায় পণ্য সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে এবং অতিরিক্ত পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয় বাড়ছে। বর্তমানে বন্দরের টার্মিনাল, বেসরকারি ডিপো ও জাহাজে আটকে থাকা প্রায় ১৩ হাজার কনটেইনারে আনুমানিক ৬৬ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি পণ্য আটকে আছে।
ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ বলেছে, নিরবচ্ছিন্ন, পূর্বানুমানযোগ্য ও দক্ষ বন্দর কার্যক্রম রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে, বিদেশি চাহিদার সঙ্গে যুক্ত লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখতে এবং ইউরোপ ও বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে সুনাম বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি ও সময়মতো ডেলিভারির বিষয়ে আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত নিশ্চিত করা, জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে চলমান বিরোধগুলো গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা এবং দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতাশীলতা বাড়াতে বন্দর আধুনিকায়ন কার্যক্রম জোরদার করা।
