এখনও ঝুলছে পোস্টার, সিটি কর্পোরেশনের কাজে ধীরগতি

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চারদিন পরও ঢাকার বিভিন্ন সড়ক, প্লাস্টিকের ব্যানার-ফেস্টুনে অলিগলি ছেয়ে আছে। অনেক জায়গায় ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে আছে। কিন্তু তা পরিষ্কারে সিটি কর্পোরেশনের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

তবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্বাচনের পরদিন থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ শুরু করেছেন তারা। এরইমধ্যে নগরের অধিকাংশ প্রধান সড়ক থেকে ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। অনেক সংসদীয় এলাকায় নিজ উদ্যোগ তা অপসারণ শুরু করেছেন বিজয়ী প্রার্থীরা। চলতি মাসের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে পরিবেশ রক্ষায় কাগজের পোস্টার নিষিদ্ধ করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে বিপরীত। অধিকাংশ প্রার্থী নিজ প্রচারণায পিভিসি, রেক্সিন, অপচনশীল কাপড় ও অন্য প্লাস্টিকের ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার করেছেন। এতে পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল রোববার সরেজমিনে যা দেখা গেল নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালায় (২০২৫) বলা হয়েছিল, অপচনশীল দ্রব্য, যেমন- রেক্সিন, পলিথিন ও প্লাস্টিক, তথা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এরূপ কোনো উপাদান দিয়ে তৈরি প্রচারপত্র, ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত গাছ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটিতে কোনো ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো যাবে না। তবে, গতকাল রোববার ঢাকা-৮, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৭সহ বিভিন্ন আসনের অধিকাংশ প্রার্থীর কাপড়ের পোস্টার, ফেস্টুন গাছ, বিদ্যুতের খুঁটিতে সাঁটানো দেখা গেছে। আবার এসব আসনে শত শত পিভিসি, রেক্সিন বা অন্য প্লাস্টিকের তৈরি ব্যানার-পোস্টারও ঝুলছে। তবে প্রধান সড়কগুলোতে আগের চেয়ে পোস্টার কম দেখা গেছে।

জাতীয় প্রেসক্লাব, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, কাকরাইল এলাকাটি ঢাকা-৮ আসনের আওতাধীন। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, শাপলা কলির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এর বাইরে আরও বেশ কয়েকজন এই আসনে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু গতকাল রোববার ওই তিনটি এলাকায় গিয়ে শতশত ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলতে দেখা গেছে। তবে প্রধান সড়কগুলোতে ব্যানার-ফেস্টুন তেমন দেখা যায়নি। শান্তিনগরের বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ বলেন, ওই এলাকায় যেসব ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছিল, তার অধিকাংশই ছিল পিভিসির তৈরি। এখন অনেক স্থানে ব্যানার খুলে সড়ক, ফুটপাতে পড়ে আছে। এগুলো ড্রেন-নালায় গেলে জলাবদ্ধা সৃষ্টি হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব ব্যানার অপসারণ করতে হবে।

দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা রাসেল রহমান বলেন, নির্বাচনি ব্যানার অপসারণে কাজ করছে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। দ্রুত সময়ের মধ্যে নগর পরিচ্ছন্ন হবে বলে আশা করি। তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল ও শেরেবাংলা নগর- এ চারটি থানা এলাকা নিয়ে ঢাকা-১২ সংসদীয় আসনটি গঠিত। এ আসনে এবার মোট প্রার্থী ১৫ জন, যা দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে একক কোনো আসনে প্রার্থীর হিসেবে সবচেয়ে বেশি। ফলে এ আসনে অন্য যে কোনো আসন থেকে ব্যানার-ফেস্টুন বেশি লাগান হয়েছিল। তবে ওই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জয়লাভ করেছেন সাইফুল আলম মিলন। গতকাল রোববার সকালে হাতিরঝিলের মধুবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজ উদ্যোগে ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছেন।