পরিবারের টেবিল ছেড়ে রাস্তাতেই ট্রাফিক পুলিশের ইফতার

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যস্ততম নগরী রাজধানী ঢাকা। অফিসের পর চারিদিক জড়িয়ে যায় যানজট, গাড়ির কোলাহল আর হর্নের শব্দে। সূর্যের আলো অস্ত যায়, অন্ধকার নামতে শুরু করে, ঠিক তখনই মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি। যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পরিবারের সঙ্গে ইফতারের টেবিলে বসতে ব্যস্ত, সেখানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় ট্রাফিক সদস্যদের। সড়কের পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে তারা অধিকাংশ সময় এক হাতে দায়িত্ব পালন এবং অন্য হাতে ইফতারের প্রস্তুতি চালিয়ে যান। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন ট্রাফিক মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

গণভবনের সিগনালে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সদস্য বাবুল বলেন, ‘আমরা যেখানে ডিউটিতে থাকি, সেখানেই ইফতার করতে হয়। অফিস থেকে ইফতারের আগে আমাদের খাবার গাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে আজানের সঙ্গে আমরা ইফতার করি।’ তিনি বলেন, আজ ছুটির দিনে রাস্তায় গাড়ির চাপ কম থাকায় তুলনামূলক স্বস্তিতে ইফতার করতে পারছি। কিন্তু কর্মদিবসে যানজটের কারণে আজানের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সম্ভব হয় না। প্রথমে দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং পরে গাড়ির চাপ কমলে ইফতার করতে হয়। এছাড়া ছুটির দিনেও ইফতারের পর রাস্তায় গাড়ির চাপ বেড়ে গেলে আবার সিগনালে ফিরে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

রাজধানীর আড়ং ট্রাফিক সিগনালে দায়িত্ব পালনকারী একজন সদস্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে আমাদের ইফতার হয় না। যদি আমরা পরিবারে গিয়ে ইফতার করি, তখন দায়িত্ব পালনে সমস্যা হবে। সাধারণত আমাদের ইফতার রাস্তাতেই হয়। রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি থাকলে পানি খেয়ে রোজা ভাঙতে হয় এবং গাড়ির চাপ কমলে পরে ইফতার করা হয়।’ দায়িত্ব পালন ও ইফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে একই কথা জানান রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে কর্মরত ট্রাফিকের সহায়তাকারী ও ট্রাফিক সদস্যরা।

গুলশান জোনের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাধারণত অফিস ৫টায় শেষ হয়। এর পর থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ির চাপ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। সাধারণভাবে রাস্তা রাত ৯টার দিকে নরমাল হয়। রমজান মাসে সরকারি ছুটি সাধারণত সাড়ে তিনটায় শুরু হলেও কিছু রোজাদার অফিস থেকে ১০-১৫ মিনিট আগে বের হন। তাই যখন সবাই একসঙ্গে রাস্তায় আসে, তখন যানজট বেড়ে যায়।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের টার্গেট থাকে যেকোনো মূল্যে ইফতারের আগে সবাই যেন বাসায় পৌঁছাতে পারে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা কাজ করি। তবে, আজানের পরেও রাস্তায় গাড়ির চাপ থাকলে পানি পান করে রোজা ভেঙে দিই। পরে রাস্তা ফাঁকা হলে ইফতার করি। তিনি বলেন, এবার ইফতারের জন্য কমিশনার প্রত্যেক সদস্যের জন্য ৮০ টাকা বরাদ্দ করেছেন, যা আগেই দেওয়া হয়।