ঈদে লক্কড়-ঝক্কড় বাস নামালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা

বললেন ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদকে কেন্দ্র করে লক্কড়-ঝক্কড় বাস রাস্তায় নামানো নিষিদ্ধ করেছেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ার।

তিনি বলেন, লক্কড়-ঝক্কড় বাস রাস্তায় নামালেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর বৃহত্তর বাস টার্মিনালে ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে ও চাঁদামুক্ত করার লক্ষ্যে মালিক-শ্রমিক মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, কোনোভাবেই লক্কড়-ঝক্কড় বাস রাস্তায় নামানো যাবে না। কারণ একটি বাস বিকল হলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাসের ছাদে যাত্রী নেওয়া, অতিরিক্ত গতি এবং অসুস্থ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাস টার্মিনালে হেল্পডেস্ক চালু রাখা হবে এবং সেখানে বাসের ভাড়া তালিকা ও সময়সূচি টানিয়ে রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি বা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে ঈদকে কেন্দ্র করে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশন এলাকায় প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। নিরাপত্তা জোরদারে সাদা পোশাকের পুলিশ, ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াট টিম ও ডগ স্কোয়াডও বিভিন্ন টার্মিনালে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে আইন প্রয়োগে ম্যাজিস্ট্রেট টিমও মাঠে থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদযাত্রা সহজ করতে সরকার ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। এতে যাত্রীদের চাপ এক বা দুই দিনে না পড়ে কয়েক দিনে ভাগ হয়ে যাবে। ফলে ১৬ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারবেন, যা পরিবহন ব্যবস্থাপনার জন্য সুবিধাজনক হবে। ঈদের ছুটিতে এক কোটিরও বেশি মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবেন, অন্যদিকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করবেন। এই বিপুল যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল সীমিত রাখা হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক মহাসড়কে না নামানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মো. সারওয়ার বলেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করাই সবার প্রধান লক্ষ্য। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল আলম বাতেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব আব্দুর রহিম বক্স দুদু।