আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে শিবিরের উদ্বেগ

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে রাকিব নামের এক তরুণকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা, সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার এবং একই রাতে রাজধানীর উত্তরায় রাতভর ত্রিমুখী সংঘর্ষসহ সম্প্রতি দেশের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

গতকাল সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ১৫ মার্চ রাতে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে রাকিবুল ইসলাম নামের এক তরুণকে দুর্বৃত্তরা এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে। একই রাতে সাভারে ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার এবং উত্তরায় রিকশাচালক, পুলিশ ও এক বাণিজ্যিক ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এই প্রতিটি ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নির্লিপ্ততা ও অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সংস্কৃতিই দেশকে ক্রমেই অরাজক করে তুলছে। আমরা এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকরভাবে পরিচালনায় ব্যর্থতার কারণে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, ফলে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। রাজধানীই যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে প্রান্তিক জনপদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ মাত্র এক সপ্তাহে দেশে ৫টি লোমহর্ষক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহীতে বিএনপির হাতে এক মোয়াজ্জিনকে পিটিয়ে হত্যা, কক্সবাজারের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পল্লাইন্যা কাটা এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় ‘গণেশ পাল’ নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা, চুয়াডাঙ্গায় দুই জামায়াত নেতাকে বিএনপি কর্তৃক হত্যা এবং কোরআন তালিমে হামলাসহ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি নানা অপরাধমূলক ঘটনায় জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। নেতারা আরও উল্লেখ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যাদের হাতে থাকার কথা, সেই ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডই আজ জননিরাপত্তার প্রধান অন্তরায়। সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অন্তত ১৫টি খুন, ৫টি ধর্ষণ, ৪৮টি চাঁদাবাজি এবং ১১০টি হামলা-সংঘর্ষে জড়িত ছিল। এছাড়া ৫টি লুটপাট, ১৩টি দখলবাজি ও শিক্ষাঙ্গণে ১২টি সন্ত্রাসী হামলাসহ নারী নির্যাতন ও দুর্নীতির মতো অপরাধের সঙ্গে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত।