ডিএনসিসির উন্নয়ন কাজে প্রকৌশলীদের মাঠে থাকার নির্দেশ
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার চলমান উন্নয়নমূলক কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নির্বাহী প্রকৌশলীদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকির কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। গতকাল সোমবার বিকালে নগর ভবনে ডিএনসিসি’র চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, গুণমান ও গতিশীলতা পর্যালোচনায় ঠিকাদারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রশাসক বলেন, নগরীর উন্নয়ন কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থেকে কাজের গুণগত মান যাচাই করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কোথাও নিম্নমানের কাজ ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করাতে হবে। মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ডিএনসিসি ও ঠিকাদারদের মধ্যে সমন্বয় ও কার্যকর বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বাদ দিয়ে কাজ করতে চাই না। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একটি আধুনিক, সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে চাই।’
সভায় প্রশাসক জোর দিয়ে বলেন, দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় ডিএনসিসিকে উন্নয়ন কার্যক্রমে অগ্রগামী থাকতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি এ সময় উল্লেখ করেন। ঠিকাদারদের উদ্দেশে তিনি সব উন্নয়ন কাজ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই শেষ করতে নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ডিএনসিসিতে মোট ৩৪৮টি উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এ সব প্রকল্পের আওতায় ২১৫ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার রাস্তা, ২১৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার নর্দমা ও ৬৭ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ঠিকাদার তাদের কাজ বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরেন এবং সে সব সমস্যা সমাধানে ডিএনসিসি’র সহযোগিতা কামনা করেন। মতবিনিময় সভায় ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসানসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা উত্তরে মশা মারতে পুরস্কার ঘোষণা : মশার উপদ্রব কমানোর কাজে ভূমিকা নিলে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। গতকাল সোমবার গুলশান নগরভবনে স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে সমন্বিত বাহক ব্যবস্থাপনা (আইভিএম) ও মৌলিক কীট নিয়ন্ত্রণ কৌশল বিষয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষনা দেন।
প্রশাসক শফিকুল বলেন, রাস্তায় হাঁটার সময় মানুষ যেন আমাদের দোষারোপ না করতে পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হবে। ‘তাত্ত্বিক জ্ঞানের তুলনায় ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। মশার যন্ত্রণায় নগরবাসী অতিষ্ঠ। আমাদের দৃঢ় কমিটমেন্ট থাকতে হবে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমরা শতভাগ সফল না হলেও আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হবে।’ আগামীতে মশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অনেকাংশে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাজের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ডিএনসিসি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমও জোরদারভাবে বাস্তবায়ন করছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে নগরবাসীকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হবে।’
মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের গতি ও পরিধি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক শফিকুল বলেন, ‘যাদের পারফরম্যান্স ভালো থাকবে, তাদের সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে।’ ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা মশক নিয়ন্ত্রণ কৌশল সম্পর্কে আরও দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। এ প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক জ্ঞানের তুলনায় ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধির ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং মশক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হবে।’
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ‘৩টি ‘সি’ (কমিটমেন্ট, কোলাবোরেশন এবং কো-অপারেশন) বাস্তবায়ন করা গেলে কার্যকরভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’ এ প্রশিক্ষণে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের মশক সুপারভাইজারসহ মোট ৮২ জন অংশ নিয়েছেন। দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কীটতত্ত্ববিদরা প্রশিক্ষণ দেন।
