জ্বালানি না পাওয়ায় ভিড় বেড়েছে বিআরটিএ অফিসে
বৈধ কাগজপত্র নেই
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি না করার নির্দেশনা কার্যকর হওয়ায় বগুড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন করতে হঠাৎ করেই বেড়েছে আবেদনকারীর সংখ্যা। জেলা প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের পর বগুড়া বিআরটিএ কার্যালয়ে বাড়ছে সেবাগ্রহীতাদের ভিড়। গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিআরটিএ কার্যালয়ে আবেদনকারীদের ভিড়। কেউ নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে এসেছেন, আবার কেউ পুরোনো কাগজপত্র নবায়ন করতে ব্যস্ত।
বিআরটিএ তথ্য সূত্রে জানা যায়, আগে যেখানে প্রতিদিন সীমিতসংখ্যক আবেদন জমা পড়তো, সেখানে গত কয়েক দিনে তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত সাত দিনে যেখানে মোট আবেদন ছিল ২০টি, সেখানে গত তিন দিনেই আবেদন জমা পড়েছে ৬১টি। দীর্ঘদিন কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো অনেকেই এখন জ্বালানি না পাওয়ার শঙ্কায় বৈধতার পথে ঝুঁকছেন।
বিআরটিএ বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার হারুন অর রশিদ বলেন, কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি বিক্রি বন্ধের নির্দেশনার পর লাইসেন্সের আবেদন হঠাৎ বেড়ে গেছে। গত তিন দিনে ৬১টি আবেদন জমা পড়েছে, যেখানে সাধারণ সময়ে ২০টিরও কম আবেদন থাকে। তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৬টি পরীক্ষায় ১ হাজার ১০০ জন অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ৬৪০ জন উত্তীর্ণ হন। আর মার্চ মাসে ৪টি পরীক্ষায় ৮৮০ জন অংশ নেন, যার মধ্যে তিনটি পরীক্ষার ফলাফলে ৪৪২ জন পাস করেছেন। এদিকে মোটরসাইকেলের বাজারে তেমন একটা প্রভাব পড়েনি। বিক্রেতারা বলছেন, বছরের শুরুতে বিক্রি ভালো থাকলেও তা আগের মতোই আছে। জ্বালানি সংকটের কারণে বিক্রির ওপর তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে প্রভাব পড়তে পারে এমনটি বলছেন মোটরসাইকেল শোরুমের কর্তৃপক্ষ। বগুড়া উত্তরা বাইক সেন্টারের ডিলার শাজাহান আলী প্রামাণিক বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট ৪২০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসেই বিক্রি হয়েছে ২০০টি। ঈদ উপলক্ষে বিক্রি বাড়লেও আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম। এদিকে সাধারণ চালকদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বগুড়ার মহাস্থান এলাকার বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী মইমুনুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে নিজেই আবেদন করেছি। আজ কাগজপত্র জমা দিলাম আশা করছি কাল নম্বর পাব। তিনি আরও বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ ভালো। এতে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে চলাচল সহজ হবে। তবে অনেকেই বলছেন, হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে সড়ক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, তবে সেবা সহজ ও দ্রুত না হলে চাপ বাড়তে পারে। প্রসঙ্গত, গত রোববার সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত হয় বগুড়ায় গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো গ্রাহককে তেল দেওয়া হবে না। বগুড়ায় জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে পেট্রল পাম্পগুলোতে এ নতুন বিধি নিষেধ আরোপ করেছে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।
