জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষে মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় ডিএসসিসি’র বক্স কালভার্ট পরিষ্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, ‘আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নাগরিকদের জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে ডিএসসিসি এরমধ্যেই বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’
তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গতকাল থেকে রাজধানীর চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের কাজ শুরু হলো। নির্ধারিত সময়সীমা পাঁচ মাস হলেও, বর্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে এই বক্স কালভার্টগুলোর বর্জ্য অপসারণ করে পানির প্রবাহ সচল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত অন্যান্য পদক্ষেপগুলো-
হটস্পট চিহ্নিতকরণ : ডিএসসিসি এলাকায় মোট ৩৩টি জলাবদ্ধতার ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (ইআরটি) : প্রতিটি এলাকার জন্য জরুরি সাড়াদানকারী দল বা ইআরটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পোর্টেবল পাম্প : অতিবৃষ্টিতে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের জন্য নতুন ৬টি পোর্টেবল পাম্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও কর্পোরেশনের আওতাধীন দুটি স্থায়ী পাম্প স্টেশনকে সম্পূর্ণ সচল করা হয়েছে।
নতুন আউটলেট নির্মাণ : বর্তমানে সমগ্র ডিএসসিসি এলাকার পানি নির্গমনের জন্য টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিল এলাকায় ৩টি আউটলেট রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। দ্রুত পানি নির্গমনের নিউ মার্কেট ও পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাট এলাকায় দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
মাস্টারপ্ল্যান রিভিশন : ঢাকা ওয়াসা থেকে প্রাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাস্টারপ্ল্যানটি আধুনিকায়নের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের সুপারিশ অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদী কাজ পরিচালনা করা হবে।
খাল পুনরুদ্ধার : জিরানি, শ্যামপুর, কালুনগর ও মান্ডা চারটি খালের প্রবাহ সচল ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রকল্প চলমান রয়েছে।
প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুস সালাম যেখানে সেখানে পলিথিন বা বর্জ্য ফেলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বক্স কালভার্ট বন্ধ না করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান। ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, জনগণ সচেতন হলে ও সিটি কর্পোরেশনের কাজে সহায়তা করলে জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিয়ন্ত্রণ- সব ক্ষেত্রেই শতভাগ সাফল্য অর্জন সম্ভব। প্রশাসক জানান শিল্পকলা একাডেমি থেকে শুরু হয়ে টিটিপাড়া পাম্পস্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ২ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কালভার্টটি পরিষ্কার হলে সেগুনবাগিচা, সচিবালয়, পল্টন, মতিঝিল ও নয়াপল্টনসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ১০ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
