বাসের ভাড়া বাড়াতে চায় মালিক সমিতি

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে গত শনিবার রাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করেছে। এখন প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রোল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ নির্ধারিত ওই দাম গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশের পাম্প থেকে সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, জ্বালানির দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাস ভাড়া ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে মালিক সমিতি।

এদিকে সরকারের ওই সিদ্ধান্তের পর অঘোষিতভাবে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন ঢাকার গণপরিবহন চালকরা। যাত্রীদের অভিযোগ, গতকাল রোববার সকাল থেকে ঢাকার সব গন্তব্যে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন বাসচালক এবং তাদের সহযোগীরা। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে জ্বালানির দাম বেড়েছে বলে জানান তারা। যদিও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গত রোববার বিকাল পর্যন্ত বাস ভাড়া বাড়ার ঘোষণা দেয়নি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

২০২২ সালের আগস্টে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ দশমিক ২০ টাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২ দশমিক ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর আর বাস ভাড়া বাড়ানো হয়নি। তবে দেশে ডলারের দাম বাড়ায় এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মূল্য বাড়ায় ছয় মাস আগে ৪০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর জন্য বিআরটিএকে চিঠি দিয়েছিল ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তবে তাদের ওই চিঠি বিবেচনা করেনি বিআরটিএ। যদিও গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টায় পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে বিআরটিএর সংশ্লিষ্টদের বৈঠক আছে। এ বৈঠকে নতুন ভাড়া নিয়ে আলোচনা হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী জুবায়ের মাসুদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গণপরিবহন পরিচালনায় খরচ বেড়েছে। তাই যৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানো দরকার। অন্যথায় লোকসান দিয়ে তো বাসে যাত্রী পরিবহন করবে না মালিকরা। তিনি বলেন, ২০২২ সালে যখন বাস ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮২ টাকা। এখন ডলার ১২৪ টাকার বেশি। ফলে বাসের যন্ত্রাংশ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে মালিকদের। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ছয় মাস আগে বাস ভাড়া ৪০ শতাংশ বাড়ানোর দাবিতে বিআরটিএতে চিঠি দিয়েছিল মালিক সমিতি। কিন্তু বিআরটিএ থেকে এই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। এখন যেহেতু জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেড়েছে, তাই বিষয়টি নিয়ে আজ সন্ধ্যায় বিআরটিএর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ওই আলোচনায় ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে দাবি জানাবে মালিক সমিতি।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন রুটে প্রায় পাঁচ হাজার বাস যাত্রী পরিবহন করে। এছাড়া শহরতলিতে আরও কয়েক হাজার বাস চলাচল করে। এসব বাসে গত রোববার সকাল থেকে ভাড়া বাড়িয়েছেন চালকরা। এ ভাড়া বাড়ানো অযৌক্তিক দাবি করে অনেক জায়গায় চালক ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগবিতণ্ডার খবর পাওয়া গেছে। সায়েদাবাদ থেকে মগবাজার-মহাখালী হয়ে আব্দুল্লাপুর যাত্রী পরিবহন করে বলাকা পরিবহন। এ বাসে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সামনে নামেন যাত্রী সাব্বির আহমেদ। এ গন্তব্যে তার কাছ থেকে ভাড়া কতে রাখা হয়েছিল তা জানতে চাইলে সাব্বির বলেন, সাধারণ অন্য যে কোনো সমস্যা ওই গন্তব্যে বা দূরত্বে বাস ভাড়া ২০ টাকা রাখা হতো। আজ ৩০ টাকা করে ভাড়া নিয়েছে।

বাসচালকের সহযোগী দাবি করেছে, তেলের দাম বাড়ায় ভাড়া বেড়েছে। এভাবে যদি এক যাত্রী থেকেই ১০ টাকা করে বেশি ভাড়া নেওয়া হয়, তা হলে তারা কী পরিমাণ নৈরাজ্য করছে তা অনুমান করা যায়। বাড্ডা লিংক রোড থেকেও বিমানবন্দরের ভাড়া ছিল ২০ টাকা। কিন্তু গতকাল বিকালে বাড্ডা লিংক রোড থেকে ওই গন্তব্যের ভাড়া ৩০ টাকা করে চেয়েছে রাইদা পরিবহনে চালকের সহকারী কামাল মিয়া। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়, সকাল থেকে সব বাসেই ভাড়া বেড়েছে। তাই তারাও লোকসান ঠেকাতে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। সরকার তো এখনও ভাড়া বাড়ায়নি, তা হলে কেন বেশি ভাড়া নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি কামাল।