সিআরবিতে নতুন কোনো স্থাপনা হবে না : মেয়র শাহাদাত
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরের সিআরবিতে নতুন কোনো স্থাপনা হবে না। আজ রোববার সকালে নগরের জামালখানে জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মেয়র। এদিকে নগরের সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ উদ্যোগের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে সিআরবি রক্ষা মঞ্চ। আজ সকালে সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে এ সমাবেশ হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসনকাজের উদ্বোধনের সময় মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সিআরবি নিয়ে একটু কথা বলতে চাই। আমি গতকাল মন্ত্রী (রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম) মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। ওনাকে আমি বলেছিলাম যে এখানে গাছ কেটে সিআরবিতে কখনও কোনো হসপিটাল কিংবা স্থাপনা আমরা করতে দেব না এবং এটা চট্টগ্রামবাসী কখনো মেনে নেবে না। উনিও এ ব্যাপারে একমত। উনি বলেছেন, পুরোনো যে হসপিটালটা আছে, সে হসপিটালটা উনি দেখবেন। ওই হসপিটালটার ইনফ্রাস্ট্রাকচার (অবকাঠামো), ওইখানে দরকার হলে ওটা ভেঙে কীভাবে একটা সুন্দর হসপিটাল করা যায়, এটাও আমাদের সময়ের দাবি। যেহেতু এই হসপিটালটাতে আসলে রোগী আসে না।’ মেয়র বলেন, ‘এখানে আমরা ডেন্টাল কলেজের কথা বলেছি এরইমধ্যে। একটা পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল হসপিটাল এবং কলেজের কথা বলেছি। কাজেই ওই জায়গায় আমরা হয়তো–বা আশা করতে পারি, পুরোনো বিল্ডিংয়ে, কিন্তু নতুন কোনো স্থাপনা সেখানে হবে না।’
সিআরবিতে সমাবেশ : সিআরবি রক্ষা মঞ্চ আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের সিআরবি এ শহরের ফুসফুস। এই সিআরবি প্রাণ-প্রকৃতির আঁধার। শুধু উন্মুক্ত পরিসর নয়, একই সঙ্গে এখানে বিপুল পরিমাণ ঔষধি গাছ রয়েছে। তাই এখানে হাসপাতালের মতো কোনো ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা করা যাবে না। বুকের রক্ত দিয়ে হলেও তা প্রতিহত করা হবে।
সমাবেশে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ইমরান বিন ইউনুস বলেন, সিআরবি নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের অনেক স্মৃতি রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, শহরের সুন্দর সুন্দর জায়গাগুলো নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এখন তাদের চোখ পড়েছে সিআরবিতে। একটা নির্বাচিত সরকার কীভাবে টাকার ফাঁদে পড়ল? সিআরবি চট্টগ্রামের শ্বাস নেওয়ার জায়গা, ঐতিহ্যের জায়গা। এখানে কোনো হাসপাতাল হবে না, এটাই চূড়ান্ত। এ নিয়ে যুক্তিতর্কও চলবে না।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ এক বছরের বেশি সময় আন্দোলন করে এখানে হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প রুখে দিয়েছিলেন। কিন্তু পুরোনো শকুন আবার সিআরবিকে গিলে খেতে চায়। তবে তা আবার প্রতিহত করা হবে।
রেলওয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এম আর মঞ্জু বলেন, ‘অনেক দিন আগে থেকে এখানে হাসপাতাল করার পাঁয়তারা চলছে। কিন্তু আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সে হাসপাতাল নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আমরাও জানতাম না। কারা এ উদ্যোগ নিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। এ নিয়ে রেলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আমরা রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। মন্ত্রীকে জানিয়ে দিয়েছি, এখানে হাসপাতালের নামে কোনো কিছু করা যাবে না।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম নগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরের ফুসফুস সিআরবিকে কেউ দখলের চেষ্টা করলে সে হাত ভেঙে দেওয়া হবে। আশা করি, দখলদারদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে, তারা সিআরবিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ থেকে সরে আসবে।’ সিআরবি রক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক চিকিৎসক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নারী নেত্রী আসমা আক্তার, দীপা মজুমদার, পরিবেশকর্মী মনিরা পারভীন, রাজনীতিবিদ চিরঞ্জন চিরু, জাহেদুল আলম, ছাত্রনেতা শওকত ওসমান, প্রকাশক সাহাব উদ্দিন হাসান প্রমুখ।
