ঢাকার ছয় খেলার মাঠে হকার বসানোর পরিকল্পনা

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসনে ৬টি খোলা মাঠে অস্থায়ী মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি জানান, নির্ধারিত এসব স্থানে হকারদের নিবন্ধনের মাধ্যমে বসানো হবে এবং একটি নির্দিষ্ট ফি আদায়ের মাধ্যমে স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

গতকাল শনিবার সকালে গুলশানের একটি হোটেলে ‘ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে? সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক এক নগর সংলাপের প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন। নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত এ নগর সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমনের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নগর অধিকার কর্মী ও গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। ঢাকা উত্তরের প্রশাসক বলেন, ‘ফুটপাতে আগে যেখানে ২০০ হকার ছিল, এখন তা বেড়ে প্রায় দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে।

এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এমনকি হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুই শতাংশ মানুষের কারণে ৯৮ শতাংশ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। আমরা ঢাকার এই কয়েকজন হকারের জন্য পুরো ঢাকাবাসীর ভোগান্তি হোক সেটা কোনোভাবেই চাই না। নির্দিষ্ট জায়গায়ই তাদের বসতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরে দোকান সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দোকানগুলো ট্রলির আদলে তৈরি হতে হবে, কোনোভাবে স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা করা যাবে না।’

শফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘নগরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমরা যা করি, তার অধিকাংশই সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।’ ওয়াসা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে একটি কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন এবং খালগুলো পরিষ্কারের ক্ষেত্রে জনগণের সম্পৃক্ততা থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মিরপুরের প্যারিস খাল গত দুই মাসে ৭ বার পরিষ্কার করলেও তা আবার নোংরা করে ফেলে। আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে খালের পাড়ের যারা বর্জ্য ফেলে তাদের জরিমানার আওতায় আনা যায় কি না সেটা নিয়ে ভাবছি।’

গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, ঢাকা শহর বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি, যা একে একটি ‘মৃত নগরীর’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বুড়িগঙ্গাসহ চারপাশের নদীগুলো দখল ও দূষণে কার্যত মৃত হওয়ায় ঢাকা এখন পানির জন্য দূরবর্তী মেঘনা নদীর ওপর নির্ভরশীল, যা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।