শিক্ষাক্রমে ঢালাও পরিবর্তন আসছে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষাক্রমে আগামীতে ‘ঢালাওভাবে পরিবর্তন আসছে’ বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সেই নতুন শিক্ষাক্রমে শিশুরা ‘ভালো নাগরিক হতে শিখবে’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীর বেইলিরোডে গাইড হাউজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা ঢালাওভাবে কারিকুলামে বদল আনছি। আমরা কারিকুলামে বদল এমনভাবে আনছি যেন এই যে প্রাথমিকে আমাদের শিক্ষার্থীরা, চার থেকে দশ বছরের আমাদের শিক্ষার্থীরা যারা আজকে গার্লস গাইডে আছেন তারা যেন তৈরি হন, আরেকটু বড় হয়ে তারা আগামীতে নেতৃত্ব দেবেন। তারা শিখবেন তাদের সিভিক ডিউটিসগুলো কি? তাদের মোরাল ডিউটিসগুলো কি? দেশ জাতির জন্য তাদের কি অবদান রাখতে হবে। গার্লস গাইডেও আসতে হবে না এটা তারা পাঠ্যক্রম থেকে শিখবেন।

‘এই জায়গা থেকে আমি চাই গার্লস গাইড, রেঞ্জার্স, হলদে পাখি এই যে এই অ্যাসোসিয়েশনগুলো তারা যেন একটা বড় অবদান রাখে। আলাদা করে গ্রুপ হতে হবে না। পাঠ্যক্রমে এই জিনিসগুলো আমরা নিয়ে আসব। কিন্তু সেই জায়গায় সহযোগিতা করতে হবে যারা ১০০ বছরের ঊর্ধে এই কাজগুলো করছেন তাদেরকে।’

সেই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের উপরে কেমন প্রভাব ফেলবে সে বিষয়ে আভাস দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘এই কারিকুলাম চেঞ্জে আমাদের বাচ্চারা শিখবে। কিভাবে ভালো সিটিজেন হতে হয়। কিভাবে নিজের জামা পরিষ্কার করতে হয়, কিভাবে নিজের স্কুল পরিষ্কার করতে হয়, কিভাবে নিজের স্কুলের সামনে রাস্তা পরিষ্কার করতে হয়। কারণ আমরা আজকে এমন একটা জায়গায় এসেছি।’ ‘যেন তারা এমন সিস্টেমে সিটিজেন হয়ে বড় হয়। যেই সিটিজেনরা সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়বে। এই সিটিজেনরা বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে।’ আগামী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং নেতৃত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে বিশ্বমানের নেতৃত্বে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় পর্যায়ে ‘হলদে পাখি নীল কমল অ্যাওয়ার্ড’ বিতরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে এবং সরকার দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল চালুর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলেও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের বয়স আনন্দের মাধ্যমে শেখার। তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বা বড় বড় বই চাপিয়ে দেওয়ার সময় নয়। নতুন কারিকুলাম এমনভাবে সাজানো হবে যাতে শিশুরা গল্প, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।’ অনুষ্ঠানে নীলকমল অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হলদে পাখির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘ভবিষ্যতেও এ ধরনের অর্জন দেশের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে।’ অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে মোট ৫৭ জন ‘হলদে পাখি’ সদস্যকে নীল কমল অ্যাওয়ার্ড দেওয়া। বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গার্ল গাইডস্ নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।