দেশসেবা ও সমুদ্র জয়ের প্রত্যয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে শপথ নিল ৪৪১ নবীন নাবিক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

জাতীয় পতাকার প্রতি আনুগত্য, দেশরক্ষার অঙ্গীকার এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো এ-২০২৬ ব্যাচের ৪৪১ জন নবীন নাবিক। পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে তাদের সমাপ্ত হলো বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ। উক্ত কুচকাওয়াজে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। পরে তিনি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। নৌবাহিনীর এ-২০২৬ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে মো. শাহরিয়ার টুটুল পেশাগত ও সব বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষতা অর্জন করে সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করে। এছাড়াও মো. সামিউল ইসলাম শাকিল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’ এবং মো. কাদের মিয়া তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ লাভ করে। একই সঙ্গে সেরা চৌকশ মহিলা নাবিক হিসেবে মোছা. মারিয়া আক্তার ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার’ পদক অর্জন করে। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন নাবিকরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গৌরবময় অঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের শপথ গ্রহণ করে। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার ভাষণে, স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, শহিদ লে. কমান্ডার মোয়াজ্জম হোসেনসহ সব অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ কমান্ডোদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সম্প্রতি নৌবহরে দুটি হেলিকপ্টার, দুটি আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকল অন্তর্ভুক্তকরণের পাশাপাশি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজ ও এন্টি ড্রোন সিস্টেমসহ আধুনিক প্ল্যাটফর্ম সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও, নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডগুলো নিজস্ব সক্ষমতায় যুদ্ধজাহাজ, এলসিটি ও অন্যান্য সহায়ক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা বিধান এবং এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নৌ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিবেদিত থেকে যেকোনো প্রকার ত্যাগ স্বীকার করার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সদা প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান ও পবিত্র দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে পেশাগত জীবন প্রবেশ করায় নৌবাহিনী প্রধান নবীন নাবিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও নবীন নাবিক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় হতে অর্জিত সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে যোগ্য ও গর্বিত নাবিক হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানান। বাংলাদেশের সুবিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তুলতে এসব নবীন নাবিক অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেই সঙ্গে সততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও মূল্যবোধকে ধারণ করে নবীন নাবিকদের দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহবান জানান। তিনি নবীন নাবিকদের সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন। মনোজ্ঞ এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসও, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
