
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সফলতা অর্জন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। ঈদের দিন থেকে গত শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে। অথচ এ সময়ের জন্য প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৯৪২ টন। গতকাল রোববার নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ফলে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয়েছে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
৩ দিনের বর্জ্য অপসারণের পরিসংখ্যান:
প্রথম দিন : ১৪ হাজার ৮১৪ টন
দ্বিতীয় দিন : ৮ হাজার ৯৭৭ টন
তৃতীয় দিন : ১২ হাজার ২৯৫ টন
মোট অপসারিত বর্জ্য : ৩৬ হাজার ৮৬ টন
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও নগরী পরিচ্ছন্ন রাখতে ডিএসসিসির নিজস্ব কর্মী এবং পিসিএসপিসহ মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কাজে ৩৮২টি বিশেষায়িত যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় যানবাহন মোতায়েন করা হয়। এদিকে, ডিএসসিসি নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে গত তিন দিনে মোট ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি সম্পন্ন হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।
নাগরিক সচেতনতা ও সহযোগিতা : ঈদের আগে জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, টিভিসি প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্যাপক মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা চালানো হয়েছিল। এছাড়া নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন (১,০৫০ লিটার) স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। এর ফলে সচেতন নাগরিকরা কোরবানির বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্ধারিত স্থানে রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করেন। এই ইতিবাচক পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে একটি পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীরা নিয়মিত সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং কার্যক্রমের ত্রুটি-বিচ্যুতি বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরায় তাদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা: কোরবানির ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণে শর্ত অনুযায়ী ইজারাদাররা নির্ধারিত সময়ে কাজ না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। জনভোগান্তি এড়াতে সিটি কর্পোরেশন নিজ দায়িত্বে এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে, যা সামগ্রিক কার্যক্রমকে কিছুটা শ্লথ ও চ্যালেঞ্জিং করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে শর্তভঙ্গকারী ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে হাটের জামানতের অঙ্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জনভোগান্তি তৈরিকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করা হয়।
এক ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা : কোরবানির কার্যক্রম সমাপ্ত হলেও ডিএসসিসির তদারকি টিম এখনও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে। ডিএসসিসি এলাকার কোথাও কোনও বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর: ০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪-এ জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সংবাদ পাওয়ার মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে জানানো হয়। টানা তিনদিন কোরবানি, যত্রতত্র চামড়া ফেলে রাখা এবং মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী অংশের তীব্র যানজটের কারণে সৃষ্ট সাময়িক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য প্রশাসক নগরবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আশ্বস্ত করা হয় যে, ঢাকাকে একটি ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং নাগরিক সেবায় কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। সবশেষে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনেও নগরবাসী ও গণমাধ্যমকে একইভাবে ডিএসসিসিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।