নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিগগিরই দেশব্যাপী কর্মসূচি

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাসস

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার শিগগিরই দেশব্যাপী একটি সচেতনতামূলক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। এই সামাজিক ব্যাধি দমনে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তোলা অপরিহার্য বলে মনে করছে সরকার। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো একটি চলমান প্রক্রিয়া, তবে মাঝেমধ্যে এই কার্যক্রমকে আরো জোরদার করতে হয়। মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব আমাদেরই। তিনি আরো বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুতার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করা নারী ও শিশু নির্যাতনের বেশ কিছু ঘটনার উল্লেখ করে ডা. জাহিদ বলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় শিগগিরই জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করবে। তিনি জানান, ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে, এই কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন খাতের পেশাজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

একই সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী ডা. জাহিদ জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। তিনি সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আরো বলেন, মানুষকে আইন সম্পর্কে সচেতন করা, তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জানানো ও কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ সে বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া জরুরি। নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গণমাধ্যমকে আরো জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী। সাংবাদিক ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমকে জোরদার করতে হবে। বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না—জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. জাহিদ বলেন, দেশের আইনগুলো মোটামুটি যথেষ্ট, তবে এটি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ই এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি আরো বলেন, আইনি কাঠামোতে বড় কোনো দুর্বলতা নেই। মূল সমস্যাগুলো রয়েছে আইন প্রয়োগ, মানুষের মানসিকতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্যে। মানুষের মানবিকতাবোধ, ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা জোরদার করতে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার আরো প্রসারের ওপরও জোর দেন তিনি।