বাকলিয়ায় ‘শিশু ধর্ষণ’ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের শিশু ‘ধর্ষণের’ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শেষ ৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালত আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সোমবার দিন রেখেছেন বলে ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদণ্ডউল আলম চৌধুরী মারুফ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকসহ মোট ৩ জন গতকাল সাক্ষ্য দিয়েছেন। মোট তিন কার্যদিবসে আলোচিত এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হল। এর আগে গত বুধবার নয় জন এবং গত বৃহস্পতিবার ছয়জন এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে মোট ১৮ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দিলেন। গতকাল রোববার শুনানিতে আসামি মনির হোসেনের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সাক্ষীদের বিভিন্ন বিষয়ে জেরা করেন। এখন আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন এবং বাদী ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি হলেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসবে।

৩২ বছর বয়সি আসামি মনিরের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। চট্টগ্রামে তিনি থাকতেন নগরীর বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে। চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেটরের দোকানে চাকরি করতেন তিনি। ২১ মে বিকালে সেখানে সাড়ে তিন বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনিরের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধ সাধে। তারা বলে, তারাই ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করতে চায়। দুই ঘণ্টা চেষ্টা করেও মনিরকে থানায় নিয়ে যেতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। সেদিন শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ২২ মে বিকেলে মনির হোসেনকে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার হলে তিনি ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দেন বলে সে সময় পুলিশের তরফে জানানো হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া সে সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, ‘ঘটনার দিন ওই শিশুটির বাবা ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টেস কারখানায়।