সরবরাহ কমায় আমের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

মৌসুমের শেষভাগে রাজশাহীর আমের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দাম। সরবরাহ কমে আসায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেড়েছে বিভিন্ন জাতের আমের দাম। এর মধ্যে আম্রপালি আম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে, যা বর্তমানে বাজারের সবচেয়ে দামি আম।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরহাটে আম বিক্রি করতে এসে আবদুর রাজ্জাক নামের এক আম ব্যবসায়ী বলেন, আমের মৌসুম এখন শেষভাগে। যতদিন যাবে আম কমবে, দাম বাড়বে। এখন বাজারে আম্রপালি, ফজলি ও আশ্বিনা জাতের আম উঠেছে। আর এভাবেই শেষ হয়ে যাবে আমের মৌসুম।

ক্রেতা, বিক্রেতা ও আম ব্যবসায়ীরা বলছেন, হাটে ফজলি, বারি আমণ্ড৪, আম্রপালি ও আশ্বিনা জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। এ জাতের আমগুলো ছাড়াও কয়েকটি গুটি আম পাওয়া গেলেও সেই সব আমের ক্রেতা কম। আমগুলোর এক সপ্তার ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।

বানেশ্বরের আমের হাট ঘুরে দেখা গেছে, আম্রপালি, ফজলি, বারি আমণ্ড৪, আশ্বিনা আম কেনাবেচা হচ্ছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে ফজলি আম, তারপরে আম্রপালি, বারি আমণ্ড৪ ও আশ্বিনা আম।

তবে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে আম্রপালি আম। এই আম আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে। ফজলি আম ১ হাজার থেকে ১৬০০ টাকা মণ, বারি-৪ আম ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

এছাড়া আশ্বিনা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে।

আম বিক্রেতা কাউসার আলী বলেন, বাগানে আম নেই। যাদের ফজলি, আশ্বিনা জাতের আমের গাছ রয়েছে; সেই সব আম পেড়ে বাজারে আনছেন তারা। অনেকের বাগানে আম্রপালি আছে। তবে তুলনায় কম। এছাড়া ফজলি, বারি আমণ্ড৪ ও আশ্বিনা আমের তুলনায় আম্রপালির স্বাদ ভালো। তাই শেষ সময়ের স্বাদের আম হিসেবে ক্রেতাদের পছন্দ আম্রপালি।

রাজশাহীর ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডা অনুযায়ী বাজারে- ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি উঠার কথা থাকলেও আগেভাগে উঠেছে এই আমগুলো। এছাড়া বারি আমণ্ড৪ সংগ্রহ শুরু হবে ৫ জুলাই, আশ্বিনা ১০ জুলাই থেকে বাজারে পাওয়ার কথা। কিন্তু আগেই উঠেছে এই আম।

আরেক আম বিক্রেতা আজাদ আলী বলেন, বাজারে আম্রপালি আম সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে এই জাতের আমটি স্বাদের। হাটে সর্বোচ্চ দামে কেনাবেচা হচ্ছে আম্রপালি আম। আকারে ছোট আমগুলো বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩১০০ টাকা মণ দরে। এছাড়া আকারে বড় আমগুলো বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে। এক সপ্তাহ আগে ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা মণ ছিল। শেষ পর্যায়ের আম তাই দাম বেড়েছে।

রফিকুল ইসলাম বানেশ্বরে আম কিনেছেন। তিনি আম পাঠাবেন চট্টগ্রামে। তিনি বলেন, খিরসাপাত, গোপালভোগ, রাণীপছন্দ আমের স্বাদে তুলনা নেই। এখন তো সেই আমগুলো বাজারে নেই। তবে বাজারের অন্যসব আমের তুলনায় আম্রপালি খেতে মিষ্টি। একমণ আম কিনেছি ৩৩০০ টাকায়। এরসঙ্গে যুক্ত হবে পরিবহন খরচ। সব মিলে চার হাজার টাকা পড়বে।

সাবিনা জান্নাত নামের এক স্কুল শিক্ষক ২০ কেজি কিনেছেন ফজলি ও আম্বিনা আম। তিনি বলেন, আমগুলো আচার করার জন্য কিনলাম। আমগুলো পরিপক্ক; তাই ভালো আচার হবে। আশ্বিনার আচার স্বাদে টক হবে। আর ফজলির আচার স্বাদে হালকা মিষ্টি। পরিবারের যার যেটা পছন্দ, সে সেটা খাবেন।

অন্যদিকে, রাজশাহীর কাটাখালী, বিনোদপুর বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরায় আম্রপালি আম বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। সেই হিসেবে প্রতিমণ আমে দর পড়ছে ৩৪০০ থেকে ৩৬০০ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ৩৬২ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৮০ কোটি টাকার বেশি। এরআগে চলতি মৌসুমের আম পাড়া শুরু হয় ১৫ মে থেকে।

প্রথম অবস্থায় গুটি জাতের আম পাড়া গেলেও পর্যায়ক্রমে গোপালভোগ, রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ, হিমসাগর ও খিরসাপাত সংগ্রহের পরে হাটে বাজারে কেনাবেচা হয়। এবিষয়ে বানেশ্বরের আমের হাটের আড়ৎদার সুমন বলেন, এই মৌসুমের আম শেষ পর্যায়ে। এখন ফজলি আমটা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে আম্রপালি আমের দাম বেশি। ৩ হাজার থেকে ৩৫০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। ফজলি আম ১ হাজার থেকে ১৬০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে।