সীতাকুণ্ডে শ্বাসনালী কেটে শিশুহত্যা মামলার রায় কাল

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ৮ বছর বয়সি শিশু ইরা মনিকে শ্বাসনালী কেটে হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করেছে আদালত। চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। হত্যকাণ্ডের চার মাসের মাথায় আলোচিত এই শিশু হত্য মামলার রায় হতে চলেছে। আদালতে অভিযোগ গঠনের পর ১০ কার্য দিবসে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে এসেছে। মামলার একমাত্র আসামি ৪৫ বছর বয়সি বাবু শেখ ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন। এর আগে মোট ৬ কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।’ নিহত জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা মাস্টার পাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা। ইরার মৃত্যুর পর ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাবু শেখের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি সীতাকুণ্ডে নিহত ইরা মনির পরিবারের পাশের ঘরে থাকতেন।

তখন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ইরা মনির বাবা মনিরুলের সঙ্গে বিরোধের জেরে তার আট বছরের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবু শেখ। এর অংশ হিসেবে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে নিয়ে প্রথমে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান তিনি।

১ মার্চ সকালে ইরা মনিকে চকলেট কিনে দেওয়ার ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে, ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসেন বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে যান। সেখান থেকে হেঁটে তারা বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার পাহাড়ে যান। ঘটনার দিন দুপুরে ওই পাহাড়ে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ‘গলা কাটা অবস্থায়’ ইরা মনিকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে পায়ে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছেছিল। এরপর শ্রমিকরা শিশুটিকে নিয়ে যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।