‘শহর-গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্য দূর করতে কাজ করছে সরকার’

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্য দূর করতে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীভূত অবকাঠামো ও সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু এলাকায় সমস্যা থাকলেও তা ধাপে ধাপে দূর করা হবে। তিনি বলেন, অতীতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু বৈষম্য থাকলেও তা ধাপে ধাপে দূর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। গতকাল রাজধানীর নবাব আব্দুল গণি রোডে বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিমসহ বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সঞ্চালন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় সম্পাদিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চাইলে এসব চুক্তি রাতারাতি বাতিল করতে পারছে না। কারণ, সেগুলো আইনগতভাবে বলবৎ রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে যেখানে সম্ভব, চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করা হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত বিদ্যুৎ বিভাগের লিখিত বক্তব্য পড়েন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ।

লিখিত বক্তব্যে সচিব বলেন, সম্প্রতি জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনমনে কিছু প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে এবং অধিকাংশ অভিযোগ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। কোথাও দায়িত্বে অবহেলা বা গ্রাহক হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ায় একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জুন মাসে গ্রাহকদের মোট ব্যয় বেড়েছে। ফলে, প্রিপেইড গ্রাহকদের আগের তুলনায় বেশি ঘন ঘন রিচার্জ করতে হচ্ছে, যা অনেকের কাছে সাময়িকভাবে অস্বাভাবিক অর্থ কর্তন বলে মনে হতে পারে।

সচিব বলেন, যেসব গ্রাহক দাবি করছেন যে, একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও আগের তুলনায় বেশি বিল এসেছে, তাদের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, মিটারগুলো আগের মতোই একই প্রযুক্তিগত ও গাণিতিক পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার পরিমাপ করছে। তাই নতুন ট্যারিফ কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ মিটারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার সুযোগ নেই। বিল বৃদ্ধির প্রধান কারণ নতুন ট্যারিফের প্রভাব।

তিনি আরো বলেন, প্রিপেইড গ্রাহকদের অনেকেই মাসের শেষ দিকে ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ট্যারিফ স্তরে পৌঁছে যাচ্ছেন। ফলে, ওই হারে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

মিরানা মাহরুখ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত, ঈদুল আজহা, তীব্র গরম, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কারণে সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরসহ বৈদ্যুতিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও ফ্রিজ, টেলিভিশন, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ও ইলেকট্রিক কেটলির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রাহকদের ওপর ব্যয়ের সম্পূর্ণ চাপ না দিয়ে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো, প্রিপেইড ও স্মার্ট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ চলছে।

যেসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সন্দেহ বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে সচিব বলেন, প্রয়োজন হলে মিটার পরীক্ষা, বিল পুনঃযাচাই এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো জানান, আগে বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে মাসিক ২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে বিলম্ব মাশুল আরোপ করা হলেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী এখন মোট বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ বিলম্ব মাশুল আরোপ করা হয়।