খাল পুনঃখননে বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত দিল প্রশাসন

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না হওয়ায় বেঁচে যাওয়া ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৬৩০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এর মধ্যে ত্রিশালে ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৩০ টাকা এবং ফুলবাড়ীয়ায় ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ও কাঁঠাল ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ঠনিভাঙ্গা বিল থেকে বোকা বিল পর্যন্ত বিস্তৃত ৩ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ খালটি পুনঃখননের জন্য প্রকল্পে মোট ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খালটি ১০ ফুট গভীর এবং ১৫ থেকে ২৩ ফুট প্রশস্ত করে খনন করা হয়। খননকাজ শেষে বৃষ্টির কারণে একাধিকবার খালের পাড় বাঁধাই করতে হয়েছে। পরে খালের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ করতে মোট ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮৭০ টাকা ব্যয় হয়। ফলে অব্যয়িত ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৩০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তারই ফলস্বরূপ খাল খননের উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। অন্যদিকে ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় রাধাকানাই ইউনিয়নের দবরদোস্তা মলঙ্গী খাল পুনঃখনন প্রকল্পেও বরাদ্দের অর্থের পুরোটা ব্যয় হয়নি। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পর প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ওই অর্থ অব্যয়িত থাকে। পরে নিয়ম অনুযায়ী তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়। ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে কাজ শেষ করতে পারায় বরাদ্দের একটি অংশ সাশ্রয় হয়েছে।

দুই উপজেলার প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ সাশ্রয় করে কাজ সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে।