গণিত ও বিজ্ঞানের ভীতি কমাতে চালু হচ্ছে ডিজিটাল শিখন পদ্ধতি

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাসস

দেশের দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় দক্ষতা বাড়াতে ‘ডিজিটাল শিখন পদ্ধতি’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অনুমতিতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ‘ডিজিটাল গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষা প্রকল্প’-এর প্রি পাইলটিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘদিনের ভীতি দূর করা, কোভিড মহামারি পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া শহর ও গ্রাম পর্যায়ের শিক্ষার বৈষম্য হ্রাস, মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বাস্তব প্রয়োগ, বিশ্লেষণ এবং সমস্যা সমাধানভিত্তিক একটি আধুনিক শিখন পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক পাঠদান দক্ষতা নিশ্চিত করা কর্মসূচির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য বলে প্রকল্পের ধারণাপত্রে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর খান মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বাসস’কে বলেন, ‘মাধ্যমিক পর্যায়ে দুর্গম ও স্বল্প-সুবিধাপ্রাপ্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক দক্ষ পাঠদান, উপযুক্ত শিখনসামগ্রী ও স্বশিক্ষার সুযোগের অভাবে গণিত ও বিজ্ঞানে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে। কোভিড মহামারির কারণে এই শিখন বৈষম্য আরও বেড়েছে।’

তিনি জানান, জাইকার অর্থায়নে দেশের দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ভীতি দূর করতে একটি প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর এই কর্মসূচির সফলতার পর সারা দেশের সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষার্থীদের এই দুই বিষয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি কার্যকর ও সম্প্রসারণ মডেল তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, দক্ষ শিক্ষক ছাড়া শ্রেণিকক্ষের রূপান্তর সম্ভব নয়। এ প্রকল্পে ব্যবহৃত ডিজিটাল টিচিং গাইড শিক্ষকদের পাঠদান সক্ষমতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করবে।’ প্রকল্পের গঠন ও কাঠামো বিষয়ে মাউশি জানিয়েছে, ডিজিটাল ম্যাথ অ্যান্ড সায়েন্স এডুকেশন প্রজেক্ট ফর টিচারস অ্যান্ড স্টুডেন্টস ইন আন্ডার-রিসোর্সড রিমোট এরিয়াস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পটি জাইকার অর্থায়নে ‘গ্রাসরুটস টেকনিক্যাল কো-অপারেশন’ ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে বাস্তবায়িত হবে। জাপানের অলাভজনক সংস্থা ‘ই-এডুকেশন’ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন যৌথভাবে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও অংশীদার হিসেবে সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘ব্যাকবন লিমিটেড’। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাউশি অধিদপ্তরের পর্যালোচনার পর ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রকল্পের অনুকূলে আনুষ্ঠানিক অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং মাউশির সাথে সমন্বয় রেখে প্রকল্পের প্রতিটি ডিজিটাল কনটেন্টকে শতভাগ পাঠ্যবইয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে প্রণয়ন করা হবে।

মাউশি অধিদপ্তর জানায়, ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক আইসিটি টুল, প্রোটোটাইপ লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা বৈষম্য দূর করা হবে। গত ২৪ ও ২৫ জুলাই চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠান— বাজাপ্তী রমণী মোহন উচ্চ বিদ্যালয় এবং গন্ডামারা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রি পাইলটিং এর মধ্যে দিয়ে এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা হয়। এই দুটি বিদ্যালয়ে পরিচালিত প্রাথমিক কার্যক্রমের পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক সাড়ার ভিত্তিতে চাঁদপুরের সকল উপজেলাকে প্রাথমিক পাইলটিং এলাকা হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।