চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানে আসছে পাঁচ উপজেলা
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান ২০২৫-২০৫০-এর খসড়া চূড়ান্ত মহাপরিকল্পনার এলাকা চট্টগ্রাম নগরের বাইরেও সম্প্রসারিত হয়েছে। আনোয়ারা, রাউজান, হাটহাজারী, পটিয়া ও সীতাকুণ্ডসহ মহানগরের পার্শ্ববর্তী বিস্তৃত এলাকা এর আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। গতকাল শনিবার চউক ভবনের হলরুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান ২০২৫-২০৫০-এর খসড়া চূড়ান্ত মহাপরিকল্পনার ওপর আগামী ২ আগস্ট থেকে ৬০ দিনব্যাপী জনমত গ্রহণ শুরু হচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাগরিকরা এ পরিকল্পনার ওপর মতামত, আপত্তি, সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।
চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প পরিচালক মো. আবু ঈসা আনসারী মাস্টারপ্ল্যানের পটভূমি, উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এলাকা এবং খসড়া মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন খসড়া চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যানের ওপর জনগণের মতামত গ্রহণ করা হবে। নাগরিকরা চউক ভবনের চতুর্থ তলায় গিয়ে খসড়া মহাপরিকল্পনার প্রতিবেদন, প্রস্তাবনা ও সংশ্লিষ্ট মানচিত্র সরাসরি পর্যালোচনা করতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইন ও ওয়েব-জিআইএসের মাধ্যমেও মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, একটি মাস্টারপ্ল্যান শুধু বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী কিংবা পরিকল্পনাবিদদের তৈরি নথি হতে পারে না। একটি এলাকার বাস্তব সমস্যা ও প্রয়োজন সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন সেখানকার বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতা, যানজট, খাল-পুকুর-জলাশয় সংরক্ষণ, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও গণপরিবহনের ঘাটতির মতো বিষয়গুলো জনগণের মতামতের মাধ্যমে পরিকল্পনায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব।
এ সময় চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জনগণ ছাড়া মাস্টারপ্ল্যান নয়, জনগণের জন্যই এই মাস্টারপ্ল্যান।’ চট্টগ্রামের মানুষ কী ধরনের নগর চান, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং আগামী দিনের চট্টগ্রাম কেমন হওয়া উচিত, এসব বিষয়ে জনগণের মতামত নিয়েই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানটি ২৫ বছর মেয়াদি। জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য পরিকল্পনাটি উন্মুক্ত করার দিনটি চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়নের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। চউক চেয়ারম্যান জানান, চট্টগ্রামের প্রথম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয় ১৯৬১ সালে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান এবং ২০০৮ সালের ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে প্রণয়নাধীন মাস্টারপ্ল্যানটি চট্টগ্রামের চতুর্থ মহাপরিকল্পনা। নতুন পরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার, যোগাযোগ, পরিবহন, জলাবদ্ধতা, আবাসন, পরিবেশ, পাহাড়, নদী, খাল, পুকুর, জলাশয়, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
চউক চেয়ারম্যান বলেন, এসব এলাকায় ভবন বা উন্নয়ন পরিকল্পনার অনুমোদন যে প্রতিষ্ঠানই দিক না কেন, তা যেন অনুমোদিত মাস্টারপ্ল্যানের প্রস্তাব ও নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও জানান, মাস্টারপ্ল্যানের পরিকল্পনা এলাকা চট্টগ্রাম নগরের বাইরেও সম্প্রসারিত হয়েছে। আনোয়ারা, রাউজান, হাটহাজারী, পটিয়া ও সীতাকুণ্ডসহ মহানগরের পার্শ্ববর্তী বিস্তৃত এলাকা এর আওতায় আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের ওপর জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমাতে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে পরিকল্পিত মিনি শহর ও স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাবও মাস্টারপ্ল্যানে রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় আবাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন ও যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ নগরায়ণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান নগর উন্নয়নের বিভিন্ন অসংগতির কথা উল্লেখ করে চউক চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রামে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থাপনা অনুমোদিত পরিকল্পনা এবং ভূমি ব্যবহারের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করে গড়ে ওঠেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে পরে তা হাসপাতাল বা অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে যানজট, পার্কিং সংকট, জনসমাগমের চাপ ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, শুধু মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই পরিকল্পিত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন ও স্থাপনা নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ম মেনে চলতে হবে।
