‘খাস কালেকশন’-এর নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মদন ও খালিয়াজুরী উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি খালে শামুক উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব শামুক তারা হাঁসের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের বাসিন্দা ওয়ালিদ মিয়া। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, খালিয়াজুরী উপজেলার জগন্নাথপুর নূরপুর-বোয়ালী লাচুয়ানী বিলের অংশে অবস্থিত দরুন্দা খালে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী মহল ‘খাস কালেকশন’-এর নামে শামুক উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। অভিযোগকারী ওয়ালিদ মিয়ার দাবি, হাওরাঞ্চলের খাল-বিল ও জলাশয় উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। অথচ তা উপেক্ষা করে দরুন্দা খালে শামুক উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। গত ৩ জুলাই হাওরাঞ্চল সফরে গিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর হাওরের খাল-বিল ও জলাশয় উন্মুক্ত রাখার কথা বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে এসব জলাশয় কোনো ধরনের ইজারা না দেওয়ার কথাও তারা জানান। এর পরও ‘খাস কালেকশনের’ নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে গত রোববার গোবিন্দশ্রী এলাকায় সরেজমিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এ প্রতিবেদক। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার প্রতিনিধি সৈয়দ আমিনূল হাসান (রুজেল) বলেন, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার নির্দেশে দরুন্দা খালে মাছ ধরার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য জলাশয় উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়ায় তা মেনে খালটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। শামুক উত্তোলনের জন্য চাঁদা আদায়ের অভিযোগকে তিনি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেন। মেন্দিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে খালিয়াজুরী ইউএনও কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।