১২ শিক্ষার্থীর জন্য ২০ শিক্ষক, পাস করেনি কেউ
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের দায়িত্বে ছিলেন ২০ জন শিক্ষক। অথচ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউই পাস করতে পারেনি। গত সোমবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। এ মাদ্রাসাটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নে অবস্থিত। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ২৩টি মাদ্রাসা থেকে ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন। মাদ্রাসা পর্যায়ে উপজেলায় গড় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ শিক্ষার্থীর ফলাফল শূন্য। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে বৈরাটি সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেনি। তারা চেষ্টা করেছেন। তবে মাদ্রাসাটিতে আগে শিক্ষক সংকট ছিল এবং অবকাঠামোও জরাজীর্ণ। সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। আগামী বছর থেকে ভালো ফলাফলের জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।’
তবে ২০ জন শিক্ষক থাকার বিপরীতে মাত্র ১২ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও একজন শিক্ষার্থীও পাস না করার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘এটা তো আসলে লজ্জার কথা। প্লিজ, এটা নিয়ে নিউজ করবেন না।’ এদিকে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক সংখ্যা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমন ফলাফলে সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, একটি প্রতিষ্ঠানে ২০ জন শিক্ষক থাকার পরও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর সবাই কেন অকৃতকার্য হলো?
শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি যদি ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হয়ে থাকে, তাহলে তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে আনা এবং পড়াশোনায় মনোযোগী করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর উদ্যোগ কতটা ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
