অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েব
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

হাজার টাকার নোটের বান্ডেলে একশ’ বা ছোট নোট রেখে ভল্ট থেকে ৪ কোটি টাকার বেশি ‘আত্মসাতের’ ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখায়।
চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘী পূর্ব করপোরেট শাখায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শাখার এক কর্মকর্তাসহ দুজনকে পুলিশে দিয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- অগ্রণী ব্যাংক লালদিঘী পূর্ব করপোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল ইসলাম (৪১) ও জাফর উল্লাহ তানভীর (২৫)।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত সোমবার থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের ভল্টের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র অফিসার কামরুল হোসেনকে দায়ী করেছেন।
পাশাপাশি তারা কামরুলসহ দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
গত সোমবার তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান পরিদর্শক ইকবাল। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, ভল্টে নগদ টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ হাজার টাকার নোটের বান্ডেলে ১০০ টাকা বা ছোট নোট দিয়ে ভল্টে জমা রেখে ‘মনগড়া হিসাব’ মিলিয়ে রাখতেন কামরুল। বাইরে থেকে ভল্টে টাকার বান্ডেল দেখা গেলেও সেখানে মূল টাকা নেই। ভল্টের আত্মসাৎ করা টাকা কামরুল তার পরিচিত জাফর উল্লাহ তানভীর (২৫) নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে হাটাহাজারী উপজেলায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার চালু করেছেন, যেখানে বিভিন্ন জাতের ৫০-৬০টি গরু আছে। অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রামের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোস্তাক আহমেদের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত বছরের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। আত্মসাত করা টাকা গরুর ফার্মে বিনিয়োগ করেছেন কামরুল। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে ভল্টে রাখা নগদ টাকার হিসাব মেলানোর সময় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে থাকা কামরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। তার কাছ থেকে টাকার হিসাব চাইলে তিনি গড়িমসি শুরু করেন।
