কালুরঘাট-চাক্তাই মেরিন ড্রাইভে
ডিসেম্বরের মধ্যেই যান চলাচল শুরু
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের বহুল প্রতীক্ষিত কালুরঘাট-চাক্তাই চার লেনের মেরিন ড্রাইভ সড়কে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব দাস বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কালুরঘাট-চাক্তাই চার লেনের মেরিন ড্রাইভে সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের ৯২ শতাংশ নির্মাণকাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
রাজীব দাস বলেন, কর্ণফুলী নদীর পশ্চিম তীরে নির্মাণাধীন বাঁধ-কাম-মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তিনি জানান, প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি কালুরঘাট শিল্প এলাকা থেকে রেলওয়ে সেতু পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কালুরঘাট সেতু এলাকায় আরও ১০০ মিটার জমি অধিগ্রহণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন করতে সিডিএ এরইমধ্যে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। চাক্তাইয়ের কল্পলোক থেকে বলিরহাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ওয়াকওয়ের নির্মাণকাজও এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, সিডিএ কালুরঘাট-চাক্তাই মেরিন ড্রাইভের বাকলিয়া এলাকায় নদীর তীরবর্তী পাঁচ কিলোমিটার এলাকাকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় শাহ আমানত সেতু থেকে বলিরহাট পর্যন্ত একটি ওয়াকওয়ে এবং শিশুদের বিনোদন সুবিধাসহ একটি রেস্তোরাঁ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাঁধের ওপর নির্মিত সড়কটি হবে চার লেনের। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সড়কটির উচ্চতা হবে ২৪ দশমিক ৫ ফুট এবং প্রস্থ ৮০ ফুট। জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) নির্দেশনা এবং ১৯৯৫ সালের চট্টগ্রাম মহানগর মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের লক্ষ্যে বিভিন্ন খালের মুখে স্থাপন করা ১২টি জোয়ার প্রতিরোধক রেগুলেটর ও পাম্প হাউসের নির্মাণকাজও এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৯ সালের জুনে চাক্তাই খালের মোহনায় একটি স্লুইসগেট নির্মাণের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি শেষ করতে সরকার এক বছর সময় বাড়িয়ে নতুন সমাপ্তির সময়সীমা ২০২৬ সালের জুন নির্ধারণ করেছিল।
