ডিসিসিআই সভাপতি
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে ভাটা
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্যের চাপের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের ধীরগতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ যেখানে প্রায় ২৬ শতাংশ, সেখানে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি মাত্র ৫ শতাংশ- যা বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে এবং দারিদ্র্যের হার সাড়ে ২১ শতাংশে পৌঁছানোয় অর্থনীতির ওপর বহুমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলের ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি- অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি- পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
তাসকিন আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের লেবার ফোর্স সার্ভে অনুযায়ী দেশে বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। জুন ২০২৬-এ মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা জুলাই ২০২৬-এ কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে সরবরাহ চেইনের বিপর্যয় এবং ফ্রেইট পাওয়ার দ্বিগুণ হওয়ার ফলে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে স্থানীয় মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে এবং দেশের বৈশ্বিক শিল্প সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে সাড়ে ২১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
