সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বরের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে

- রাজশাহী ডিসি

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীতে আমন ধান রোপণের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ফলে নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা কমেছে। তবে আমন ধানে উপরি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

বর্তমানে জেলার গুদামগুলোতে দুই হাজার ৪৬৯ টন বা ৪৯ হাজার ৩৮০ বস্তা ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বরের বরাদ্দও ডিলারদের দেওয়া হয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুদ বা কালোবাজারির চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরের চৌদ্দপাই এলাকার সারের ডিলার মেসার্স মোসলেম মোল্লা ট্রেডার্স এবং পবা উপজেলার কাটাখালীর সংসাদিপুর এলাকার মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজের গুদাম পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী।

এ সময় তিনি সারের মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি দেখেন। এ সময় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এম এ মান্নান উপস্থিত ছিলেন। সার সরবরাহ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, অগাস্টে রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে এবং ডিলারদের মাধ্যমে তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় অতিরিক্ত সারের বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ডিলাররা সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত সার উত্তোলন করতে পারবেন। এর মধ্যে তাদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে দাবি করে কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমন ধানের প্রায় ৯০ শতাংশ রোপণ শেষ হওয়ায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা এখন কম। এ সময় আমন ধানে উপরি প্রয়োগের জন্য ইউরিয়া সারের প্রয়োজন বেশি।

তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও, কৃষি কর্মকর্তা ও ব্লক সুপারভাইজারদের উপস্থিতিতে ডিলার পয়েন্ট থেকে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হচ্ছে। কৃষকেরা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য না হন, সে বিষয়েও নজরদারি চলছে। ডিলারদের সার বিতরণে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের হিসাব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, একজন ডিলার কতটুকু সার উত্তোলন করেছেন, কতটুকু মজুদ রেখেছেন এবং দিন শেষে কতটুকু বিক্রি করেছেন, তার তথ্য প্রতিদিন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, কালোবাজারি ও অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে ‘ভিজিল্যান্স টিমের’ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে এ পর্যন্ত এক হাজার ২৯৩ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে তিন লাখ টাকা। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধভাবে সার মজুদ, কালোবাজারি কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিসি শহিদুল ইসলাম।