রংপুরে চার খুন
সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো
রংপুরে আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চার খুনের মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে| গতকাল রোববার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল| এরপর কারাগারে থাকা সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়|
এর আগে আসামিদের নিরাপত্তার স্বার্থে টেকনোলজিস্টকে কারাগারে পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনুরোধ জানায় গোয়েন্দা পুলিশ| অনুমতি পাওয়ার পরপরই তারা নমুনা সংগ্রহের জন্য কারাগারে যান| এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের সাথে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী ছিলেন| রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য আসামিদের ইউরিন স্পেসিমেন (প্রস্রাবের নমুনা) সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হবে|
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী বলেন, আদালত ডোপ টেস্টের আবেদন মঞ্জুর করায় আসামিদের কারাগারে থাকায় অবস্থায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে|
রংপুর পলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি খুবই চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর| তাই এই মামলার আসামিদের বাইরে নিয়ে আসা হলে তাদের ওপর হামলা বা যে কোনো সময় মবের সৃষ্টি হতে পারে| এই আশঙ্কা থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিল| পরে টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে|
গত শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মাস্টার্স সম্পন্ন আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়| ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় এবং বাধা দেওয়ায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করে পরে অন্যদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ| এ ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়| তারা দুজনে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন| একই সাথে দুজন সাক্ষীও এই ঘটনায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন|
