চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের 'আশ্রয়দাতা' যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরের অভিজাত খুলশী আবাসিক এলাকায় ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এবার মোহাম্মদ মহসিন নামে এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া এবং তাদের পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ বলছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহসিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে। পরে গত শনিবার খুলশী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মহসিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তার মাধ্যমেই খুলশীর একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টও তার কাছে জমা ছিল। পুলিশ জানায়, কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে ১১৮ গ্রাম কোকেন কুরিয়ার করা হয়। তবে পরে ওই কোকেনের চালানটি চট্টগ্রামে ফেরত আসে।

ফেরত আসা কোকেনের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে খুলশীর ওই ভবনে অবস্থানরত ৬৩ বিদেশি নাগরিকের তথ্য সামনে আসে।

এরপর কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে বিদেশিরা তাদের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক বাংলাদেশি যুবকের কাছে রয়েছে এবং ওই যুবকই তাদের জন্য ফ্ল্যাট ভাড়া করে দিয়েছেন বলে জানান। পরে পুলিশের অনুসন্ধানে মহসিনের নাম আসে।

কোকেনের ঘটনায় করা মামলায় গত শনিবার সন্ধ্যায় মহসিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। এ মামলায় তার রিমান্ডও চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি তাদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া করে দিয়েছিলেন। মহসিনের পেছনে আরও কেউ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খুলশী আবাসিক এলাকার ওই ভবনে অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ দল। অভিযানে চীনের পাঁচজন, লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজনসহ মোট ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাংলাদেশে বসে অনলাইন জুয়া এবং চাকরির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতারণার কাজে জড়িত থাকার উদ্দেশ্যেই এসব বিদেশি নাগরিক দেশে এসেছিলেন।