রাজশাহীতে বিনা মূল্যে ৮৩ হাজার ৫০০ পশু-পাখিকে টিকা

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাজশাহী ব্যুরো

সকাল থেকেই তালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের প্রান্তিক খামারি ও কৃষকরা। কেউ গরু, কেউ ছাগল, আবার কেউ হাঁস-মুরগি নিয়ে আসেন টিকা দিতে। রোগের প্রাদুর্ভাবে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে বিনা মূল্যে টিকা দেওয়ার উদ্যোগে স্বস্তি দেখা গেছে তাদের মধ্যে।

গতকাল সোমবার সকালে প্রান্তিক খামারিদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে হাঁস-মুরগি, গরু ও ছাগল বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। গবাদিপশু যেন ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়, সে জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বিনা মূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে হরিপুর ইউনিয়নের চর মাজার দিয়াড়েও অনলাইনে এ ধরনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পবা উপজেলাকে অত্যন্ত উর্বর এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সঠিক পরিচর্যার অভাবে অনেক প্রান্তিক খামারি কাঙ্ক্ষিত সুফল পান না।

বর্তমান সরকার প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে সবাইকে উৎপাদনমুখী কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, বাড়িতে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করে অনেক পরিবার সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করে। কিন্তু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি পশু-পাখি মারা যাওয়ার আশঙ্কায় তাদের আয়ের পথও সংকুচিত হয়। প্রান্তিক খামারিদের কথা চিন্তা করেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সময়মতো বিনা মূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

ইউএনও জানান, কর্মসূচির আওতায় গরুর তড়কা রোগের ২ হাজার, বাদলা রোগের ২ হাজার ৫০০ এবং গলাফুলা রোগের ২ হাজার টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ছাগলের পিপিআর রোগের ২ হাজার, মুরগির রানীক্ষেত রোগের ৭০ হাজার এবং হাঁসের ডাকপ্লেগ রোগের ৫ হাজার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে ৮৩ হাজার ৫০০ টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালগাছি এলাকার খামারি রেজাউল হক নিজের গরু, ছাগল ও হাঁস নিয়ে টিকা দিতে আসেন। তিনি বলেন, 'আমার ২টি হাঁস, ৩টি গরু ও ৫টি ছাগলকে টিকা দিয়েছি। বিনা মূল্যে টিকা পাওয়ায় আমাদের মতো ছোট খামারিদের অনেক উপকার হয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগ হলে চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।'

বড়গাছী ইউনিয়নের গৃহিণী মরিয়ম বেগম বলেন, 'আমি ২টি ছাগল ও ১টি গরুকে টিকা দিয়েছি। নিজের খরচে সব সময় টিকা দেওয়া সম্ভব হয় না। বিনা মূল্যে টিকা পাওয়ায় পশুগুলোকে রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখার সুযোগ হয়েছে। এ জন্য আমরা খুবই খুশি।' তালগাছি এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক একটি রাজহাঁস নিয়ে এসেছিলেন ডাকপ্লেগ রোগের টিকা দিতে। তিনি বলেন, 'হাঁস-মুরগি আমাদের বাড়তি আয়ের একটি বড় ভরসা। একটি রোগে অনেকগুলো হাঁস-মুরগি মারা যেতে পারে। বিনা মূল্যে টিকা পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এমন কার্যক্রম নিয়মিত হলে আমাদের মতো প্রান্তিক খামারিরা আরও উপকৃত হবেন।' এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল লতিফ, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. সোহরাব খানসহ উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।