জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৫৭ শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৫৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে 'ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড' এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিতসহ ৪ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও শিক্ষাবৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।

স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছরে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৩৭টি কলেজের ৫৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে 'ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড' প্রদান করা হয়। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। এ খাতে মোট ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া অনুষ্ঠানে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ১ হাজার ৫২৫টি কলেজের মোট ৪ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ৮৩০টি কলেজের ২ হাজার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং ২০২৪ সালের জন্য নির্বাচিত ৭২৫টি কলেজের ২ হাজার ২৪ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তার বিষয়টি প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদারের নির্দেশ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার একটি বিশাল অংশের দায়িত্ব পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি কলেজগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষার মান যাচাই এবং আয়-ব্যয়ের অডিট নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং কলেজগুলোতে কী ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের কী পড়ানো হচ্ছে এবং কারিকুলাম কতটা যুগোপযোগী— এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও দক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্কিল বেইজড কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা মেধাবী হলেও যথাযথ দিকনির্দেশনার অভাবে তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটছে না। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে, বিশেষ করে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোর ল্যাব সংস্কারের জন্য যথাযথ প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না। কার্যকর ও বাস্তবসম্মত যেকোনো প্রস্তাব সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আদলে দক্ষতা ও মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হলেও এর শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে আরো কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

এটিকে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে তিনি পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, অনলাইন ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে পেছনের থেকে নয়, সামনে থেকে এক নম্বরে যেতে হবে। এজন্য প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ। মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি প্রদান তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শিক্ষাবৃত্তি পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে। মানবসম্পদ উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব, তেমনি আর্থিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোও বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক দায়িত্ব।

শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম এরইমধ্যে চালু হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে দেশি-বিদেশি ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর লুৎফর রহমান।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।