বরিশালে পাঁচ মাসে এলজিইডির ১৪৯ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বরিশাল ব্যুরো

জেলার ১০টি উপজেলায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ মাসে সড়ক, হাটবাজার, সামাজিক অবকাঠামো, সেতু-কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেচ খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এসব উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে মোট ব্যয় হয়েছে ১৪৯ কোটি ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১০০ টাকা।

এলজিইডির বরিশাল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৭.৩৬৬ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ৪.৬৯৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ৮.২৯ কিলোমিটার পাকা সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সড়ক উন্নয়নের আওতায় কাজ হয়েছে ২০.৩৪৯ মিটার। এসব কাজে ব্যয় হয়েছে ২৮৪৭.৭৯১ লাখ টাকা।

একই সময়ে ৫১৮.৩৮ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৬৭২৯.৯৭ লাখ টাকা। এছাড়া একটি হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টারের উন্নয়ন করা হয়েছে।

এ কাজে ব্যয় হয়েছে ৩৪৩.১৩ লাখ টাকা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মসজিদ, কবরস্থান ও মন্দিরসহ ৪২টি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কাজে ব্যয় হয়েছে ১৭৭.৭৬ লাখ টাকা।

এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান সড়ক সচল ও চলাচলের উপযোগী রাখতে ৫৭.২৮ কিলোমিটার সড়কের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয়েছে ২৩২০.৭ লাখ টাকা। পাশাপাশি জেলার ১০টি উপজেলায় প্রকল্পের মাধ্যমে ১২২৮.৯৬ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। এ খাতে ব্যয় হয়েছে ২৪৪২.৬২ লাখ টাকা। কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ৫.১৭ কিলোমিটার খননকৃত সেচ খাল ও পুনঃখনন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৫৭.২৮ লাখ টাকা।

এলজিইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, উন্নয়নযোগ্য কাজের মধ্যে বরিশাল সদর ও মুলাদী উপজেলায় দুটি সড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি এসব সড়ক গ্রামীণ পরিবেশের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলায় দুটি নান্দনিক আরসিসি আর্চ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রকৌশল কৌশলে নির্মিত এসব ব্রিজের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হয়েছে।

জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বাসসকে বলেন, জেলার গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এলজিইডির উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন সড়ক ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হাটবাজার, গ্রোথ সেন্টার, সামাজিক অবকাঠামো ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

এলজিইডি কর্মকর্তারা জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাস্তবায়িত এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত এবং স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।