ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতায় গার্ল গাইডদের নেতৃত্বের আহ্বান : গাজীপুর ডিসি
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বাসস
নারী নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও শৃঙ্খলার বিকাশে দীর্ঘ ১১ বছরের বিরতির পর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জাতীয় গাইড ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসিয়েশনের আয়োজনে গতকাল রোববার সকালে কালিয়াকৈরের বাড়ইপাড়াস্থ জাতীয় ক্যাম্প এলাকায় সাত দিনব্যাপী ১৩তম এ জাতীয় গাইড ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গঠনে গার্ল গাইডদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন এ বাংলাদেশ একদিন সবুজে ভরে উঠবে, হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এখানকার জেলা প্রশাসক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এ ইচ্ছা বাস্তবায়নে তার পক্ষ থেকে গার্লস গাইডদের চলমান পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, 'বর্তমানে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকার ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। গাজীপুর জেলায় এ কার্যক্রমে তোমরা গার্লস গাইডরা নেতৃত্ব দেবে এ প্রত্যাশা রাখি। সবুজের বাংলাদেশ বিনির্মাণে গার্লস গাইডরা হবে গ্রীন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর।' দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এ আয়োজন প্রসঙ্গে নূরুল করিম ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, প্রতি বছরই জাতীয় ক্যাম্প আয়োজনের নিয়ম থাকলেও নানাবিধ প্রতিকূলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ১১ বছর পর এবার গাজীপুরে এটি অনুষ্ঠিত হওয়াকে সৌভাগ্যজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারাদেশে গার্ল গাইডের নেতৃত্বে থাকা সদস্য, আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় কমিশনার, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ৭ দিনের এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা জীবনমুখী নানা বিষয় শেখার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার এবং সাবেক গ্রেড-১ কর্মকর্তা কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এম রকিবুল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি জাতীয় কমিশনার প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আহমেদসহ জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। ঢাকাসহ দেশের ১০টি অঞ্চল থেকে আসা আনুমানিক ৬০০ গাইড, গাইডার এবং কমিশনার গতকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই ক্যাম্পে অংশ নিচ্ছেন। প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন, সঙ্ঘবদ্ধভাবে কাজ করা, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন ও সৃজনশীল চর্চার মাধ্যমে কিশোরী সমাজকে আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
