ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নে দুটি প্রকল্প হবে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে আমার নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। দীর্ঘদিনের সেই প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার এখন বাস্তবায়নের পথে। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ লেকের খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হওয়ায়, এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজধানীবাসীর জন্যও আনন্দের বিষয়। গতকাল ধানমন্ডি লেকের খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি লেক ঢাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী একটি জলাধার। রাজধানীর এমন কোনো নাগরিক নেই, যিনি এ লেকের নাম জানেন না। দীর্ঘদিন ধরে লেকটির উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের দাবি ছিল। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় আমি ধানমন্ডি লেককে আরও মনোরম ও আধুনিক করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হওয়ায় আমি সন্তোষ প্রকাশ করছি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ধানমন্ডি লেকের খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। তিনি বলেন, লেকের তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় বিপুল পরিমাণ স্লাজ অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে লেকের জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানো এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু লেকের খনন বা সৌন্দর্যবর্ধন করলেই হবে না, এটিকে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের জন্য ব্যবহারযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই ধানমন্ডি লেকের জন্য বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। লেকের চারপাশে মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের ব্যবস্থা, বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদন ও সুস্থ জীবনযাপনের উপযোগী বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। লেক এলাকায় লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম এবং নজরুল মঞ্চ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে উন্নয়নকাজ শেষ হলে ধানমন্ডি লেক শুধু একটি জলাধার হিসেবে নয়, বরং নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডি লেককে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ ও উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। লেকের উন্নয়নের পাশাপাশি এর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি। সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা থাকলে লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, 'শুধু সৌন্দর্যবর্ধন করলে হবে না, এর রক্ষণাবেক্ষণেও সরকারের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে এই সৌন্দর্যবর্ধন বেশিদিন ধরে রাখা যাবে না।' লেকের পানি পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশে ময়লা-আবর্জনা লেকে না ফেলার আহ্বান জানান।
শেখ রবিউল আলম বলেন, একটি লেককে সুন্দর করে তোলা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি সেই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও রয়েছে। নাগরিকরা সচেতন হলে উন্নয়নকাজের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন শুধু একটি এলাকার মানুষের জন্য নয়, এটি পুরো ঢাকা শহরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উন্মুক্ত জলাধার ও সবুজ পরিবেশ মানুষের স্বস্তি ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে। তাই লেকটির উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এদিকে, এর আগে ধানমন্ডি লেকের পরিবেশ ও ভারসাম্য সংরক্ষণে ডিএসসিসির পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। লেককে ঘিরে লাইব্রেরি, জিমনেসিয়ামসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা মন্ত্রীও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে, এটি একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব লেকে পরিণত হবে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই উন্নয়ন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
