মহাসড়ক সম্প্রসারণের মাটি বিক্রির অভিযোগ
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য সড়কসংলগ্ন এলাকা থেকে তোলা মাটি ব্যক্তিগত কৃষিজমি ভরাটের কাজে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি ড্রাম ট্রাকে করে মাটি অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন ড্রাম ট্রাকচালকের দাবি, প্রায় ৪০ লাখ টাকায় এসব মাটি কেনা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে সাহেবের বাজারসংলগ্ন গরুর বাজার পর্যন্ত সড়কের পাশের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ থেকে মাটি নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সড়ক সম্প্রসারণকাজের ঠিকাদার মো. ফারুক অনৈতিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু কাউছার রোকনের কাছে এসব মাটি বিক্রি করেছেন। রোকন তার ব্যক্তিগত দুটি ফসলি জমি ভরাটের কাজে ওই মাটি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ড্রাম ট্রাকচালক জানান, প্রকৌশলী দেলোয়ারের নির্দেশে তারা নির্দিষ্ট স্থান থেকে মাটি নিয়ে যাচ্ছেন। তবে মাটি বিক্রির অর্থ কারা পেয়েছেন, তা তারা জানেন না। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সম্প্রসারণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক বিল্ডার্স বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার ফারুকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি পিকআপসহ একজনকে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যান। বর্তমানে ওই স্থানে মাটি তোলা বন্ধ রয়েছে। দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরঞ্জিতের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আটক ব্যক্তির নাম জানাননি।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার ময়নামতি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধরখার পর্যন্ত প্রায় ৫৪ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ কিলোমিটার কুমিল্লা অংশে। প্রায় ৭ হাজার ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অর্থায়নসহ বিভিন্ন জটিলতায় মূল সম্প্রসারণকাজ শুরু হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় দেড় মাস আগে সরকারি অর্থায়নে সীমিত পরিসরে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন বলেন, 'বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত রোববার রাতে কুমিল্লা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, 'এ বিষয়ে একটি অভিযোগ শুনেছি।
আমরা তদন্ত করছি। এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' অন্যদিকে, সরু সড়ক ও যানজটের কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন এ মহাসড়কে চলাচলকারী মানুষ। কুমিল্লা নগরী থেকে প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে দেবীদ্বারের এলাহাবাদ পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আহসান। তিনি বলেন, 'কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কটি প্রশস্ত কম হওয়ায় প্রতিদিনই এখানে যানজট লেগে থাকে। সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে কুমিল্লা থেকে দুই ঘণ্টা আগে বাসা থেকে বের হতে হয়। স্কুল ছুটি হয় বিকেল চারটায়। কিন্তু যানজটের কারণে বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা সাতটা, কখনো রাত ৯টাও বেজে যায়।'
