সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ সিটি গড়তে কাজ করছি
ডা. শাহাদাত
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর ২৯৪টি পূজামণ্ডপ ও হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য মোট ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। চট্টগ্রাম সবার শহর। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব।
মেয়র বলেন, মহানগর পূজা উদ্?যাপন পরিষদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬টি থানার আওতাধীন ২৯৪টি পূজামণ্ডপে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ বাবদ প্রতিটিতে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জে এম সেন হল পূজামণ্ডপকে পাঁচ লাখ টাকা এবং নগরের জামালখানে চসিক পূজা উদ্?যাপন পরিষদের কুসুমকুমারী পূজামণ্ডপকে ১৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের চারটি সেবক কলোনিতে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিটি কলোনিতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন দৃঢ় করে। চট্টগ্রাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। এখানে সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদ্?যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় যার যার, কিন্তু নগরী সবার। নগরীর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মেয়র বলেন, সেফ সিটি গড়ে তোলার অর্থ শুধু অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা নয়; বরং এমন নগরী তৈরি করা, যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন এবং সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। এ জন্য নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।
নগরীর পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নগরবাসীকেও যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা অন্য কোথাও পানি জমে থাকলে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে, যা ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সড়কের মিড-আইল্যান্ডে গাছ লাগানো, সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নগরীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদ্?যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, সহসভাপতি বিপ্লব কুমার চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন টুটুল, প্রিয়তোষ ঘোষ রতন ও অয়ন ধরসহ মহানগরীর বিভিন্ন থানার পূজা উদ্?যাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মহানগরীর ২৯৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
