প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নতুন রূপে চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের চত্বর এখন পরিপাটি ও নান্দনিক। মাত্র চার দিন আগেও যে প্রাঙ্গণ ছিল কিছুটা বিবর্ণ, তা এখন সেজেছে বর্ণিল সাজে। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে পুরো বন্দরনগরীতে বইছে আনন্দের আবহ। নগরীকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক রূপে সাজিয়ে সরকারপ্রধানকে বরণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। গতকাল সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে সার্বিক প্রস্তুতি এবং জে এম সেন হলের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ পরিদর্শনকালে এ কথা জানান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। চসিক মেয়র বলেন, চার দিন আগের জে এম সেন হলের চিত্রের সঙ্গে আজকের অবস্থার আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সিটি করপোরেশনের নিরলস প্রচেষ্টায় জায়গাটিকে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়েছে। আমরা চেয়েছি, প্রধানমন্ত্রী এখানে পা রাখলেই যেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির মোহনীয় রূপ দেখতে পান।

চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, সূর্য সেন ও মহিমচন্দ্র দাসের মতো ক্ষণজন্মা বিপ্লবীদের স্মৃতিচিহ্নগুলো একসময় অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে ছিল। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংস্কার ও দৃষ্টিনন্দন উপায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকা নয়, বরং পুরো যাতায়াত পথকে চকচকে করা হয়েছে। বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু করে ভিআইপি সড়ক, সবখানেই চলছে বিশেষ সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সড়কের দুই ধার থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে সব ধরনের অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন। এছাড়া নবনির্মিত সাইকেল ট্র্যাক, বোট ক্লাব সড়ক এবং নগরীর প্রধান ধমনীগুলোতে বর্ষা-পরবর্তী উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ এখন দৃশ্যমান। সরকারপ্রধানের আগমন ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে এক অন্যরকম উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ, বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী মা-বোনেরাও প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সবার স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এই সফরটি একটি ঐতিহাসিক ও উৎসবমুখর আয়োজনে রূপ নেবে।'

জনপ্রিয় এলাকা জামালখানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মেয়র বলেন, নগরবাসীর অবসর সময় কাটানোর প্রিয় এই স্থানটিকে আরও বেশি জনবান্ধব, আকর্ষণীয় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করে গড়ে তুলতে বিশেষ রূপরেখা হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।