বৃষ্টি নেই তবুও জলাবদ্ধতা ভোগান্তিতে বাসিন্দারা
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুর প্রতিনিধি

ভারী বৃষ্টিপাত নেই, তারপরও জলাবদ্ধতা। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা থেকে বারতোপা সড়কের বর্ণমালা মোড় এলাকার বাসিন্দাদের সারা বছরের চিত্র এমনই। বৃষ্টিপাত না হলেও হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয় তাদের।
সড়কটির প্রায় ৬০০ ফুট জায়গায় পানি না মাড়িয়ে চলাচল করার যেন কোনো উপায় নেই। প্রশাসনের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলখ্যাত গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রাণকেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তা। খুব কাছাকাছি হওয়ায় মাওনা চৌরাস্তা ব্যবসায়ী, বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ বর্ণমালা মোড় এলাকায় বসবাসের জন্য বেছে নিয়েছেন। আশপাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। পাশাপাশি গড়ে উঠেছে ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
তবে ওই এলাকার আশপাশের বহুতল ভবন, খাবার হোটেলসহ ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। তাদের দৈন্দদিন ব্যবহার্য ও পয়ঃবর্জ্য ড্রেন উপচে সড়কে গিয়ে জমে এ জলাবদ্ধতার তৈরি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সড়কের চলাচলকারী যাত্রী ও এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসানাত পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, 'মাওনা-বারতোপা সড়কটি নির্মাণের সময় বর্ণমালা মোড় থেকে মাওনা চৌরাস্তা অভিমুখে একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই ড্রেন নির্মাণের সময় স্থানীয় ভবন মালিক, হাসপাতাল, বাসাবাড়ি, ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশনের লাইন ওই ড্রেনে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ড্রেনটি বিভিন্ন বর্জ্য ভরে নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি উপচে সড়কে পড়ছে।' বর্ণমালা মোড়ে অবস্থিত বায়তুস সালাম জামে মসজিদ। ওই মসজিদের মুসল্লি তারেক হাসান বলেন, 'জনাকীর্ণ এমন জায়গাতে বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। এ বিষয়ে কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।'
তিনি বলেন, 'সড়ক বা ড্রেনে শুধু ব্যবহৃত পানি ছাড়া হচ্ছে না, বিভিন্ন বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্য মিশ্রিত পানি ছাড়া হচ্ছে। আমরা মসজিদে যাওয়ার সময় পোশাক ও জুতায় এ পানি লাগে। অনেক সময় এ অবস্থায় নামাজ আদায় করতে বাধ্য হচ্ছি।'
বর্ণমালা কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক মো. জাহিদুল হক সুমন জাগো নিউজকে বলেন, 'আমাদের বিদ্যালয়ে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চলে। বর্তমানে জলাবদ্ধতার জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চাচ্ছে না। শিশুরা নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে স্কুলড্রেস, জুতা ভিজিয়ে ফেলছে। অভিভাবক তাদের কোলে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছে। সবমিলিয়ে এই জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।'
এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঞা বলেন, বিষয়টি আমি অবগত। সড়কটি পরিদর্শন করে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
