ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে
ডিএনসিসি
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের মতো মিরপুর-১ নম্বর এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। গতকাল বুধবার মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, শুধু ফুটপাত উচ্ছেদ নয়, রাজধানীর যেসব স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও অবৈধ দখল নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে; সেসব জায়গায়ও অভিযান চালানো হবে। পথচারীদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর-১, শাহ আলী, দারুস সালামসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ফুটপাত ও সড়ক দখলের কারণে ভোগান্তিতে ছিলেন।
অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নাগরিকদের নির্বিঘ্নে চলাচলের ব্যবস্থা করা তার নৈতিক দায়িত্ব। এ এলাকার বিভিন্ন বাজার কমিটির নেতা ও সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে তাকে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন।
এর আগে, সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় ফুটপাত ও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে প্রায় দুই হাজার দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকটি দোকান আবারও ফুটপাতে বসতে দেখা যায়।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ স্থাপনা ও দোকান উচ্ছেদে এ অভিযান পরিচালনা করবেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
গোলচত্বরের ফুটওভার ব্রিজের নিচ থেকে অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী মাজার, শাহ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শপিং কমপ্লেক্স, ছিন্নমূল মার্কেট, ফেয়ার প্লাজা, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, বাগদাদা ও সনি হল পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত থেকে দোকান সরানো হয়েছে।
তবে উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার পর কয়েকজন হকারকে আবারও ফুটপাতে ব্যবসা শুরু করতে দেখা যায়। সম্প্রতি মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সেখানে গাছ লাগানো হয়েছিল বলে জানান প্রশাসক। লাগানো গাছগুলোর পরিচর্যা ও নিয়মিত পানি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার কেউ ফুটপাত দখল করে বসলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় উচ্ছেদ-পরবর্তী পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হবে।
নগরবাসীর চলাচলের পথ সচল রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
