
ইসলাম ধর্ম মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত মানবজাতির জন্য একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। ছোট-বড় উঁচু-নীচু সব স্থানের সব মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাবতীয় দিকনির্দেশনা এ ব্যবস্থায় বিদ্যমান। মানবজাতিকে পৃথিবীতে প্রেরণের সঙ্গে সঙ্গে এ জীবন ব্যবস্থাও আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। এই জীবন ব্যবস্থায় মানুষের সার্বিক ও বহুমুখী কল্যাণ বিবেচনা করে স্বাভাবিক প্রকৃতি ও চাহিদার যেমন খেয়াল রাখা হয়েছে তেমনি এ ক্ষেত্রে বিশেষ কল্যাণকর নিয়ন্ত্রণও লক্ষ্য করা যায়। আলোচ্য প্রবন্ধে শরিয়তের আলোকে নারীদের কর্মে নিয়োগের প্রসঙ্গ আলোচনা করবÑ
আইনের চোখে সবাই সমান
শরিয়া আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান। নাগরিকদের মৌলিক মর্যাদা ও অধিকার সমান। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র, শেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ পার্থক্য করা হবে না। তবে শিক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী যার যতটুকু প্রাপ্য তাকে ততটুকু মর্যাদা, অধিকার, সামাজিক সুযোগ, রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও কর্মের সুযোগ প্রদান করা চাই। প্রাসঙ্গিকভাবে আমরা মহান আল্লাহর বাণী সামনে রাখতে পারি। ‘হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার স্ত্রী (সঙ্গিনীকে) সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন।’ (সুরা নিসা : ১)।
মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘সবাই আদমের সন্তান আর আদম মাটির তৈরি।’ (বোখারি ও মুসলিম)। অপর হাদিসে এসেছেÑ ‘অনারবদের ওপর আরবদের, কালোর ওপর সাদাদের, নারীদের ওপর পুরুষদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।’ (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির (রহ.), খ- ৫, পৃষ্ঠা ১৯৮ ও ৩২০-৩৪২, ই. ফা. বা.)। এসব আয়াত ও হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে, মানুষ হিসেবে মৌলিক বিবেচনায় নারী ও পুরুষের কোনো ভেদাভেদ করা হয়নি।
প্রতিদান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সমান
মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদের পুরুষ-নারী কারও কৃতকর্মের ফল বিনষ্ট করি না।’ (আলে ইমরান : ১৯৫)। একইভাবে পবিত্র কোরআনের সুরা আহজাবের ৩৫ নং আয়াত, সুরা বাকারার ৩৬ নং আয়াত, সুরা আরাফের ২৩ নং আয়াত, সুরা নাহলের ৯৭ নং আয়াতেও নেক আমলের ক্ষেত্রে, পুরস্কার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে, অপরাধের ক্ষেত্রে, তওবার ক্ষেত্রে, পূতঃপবিত্র ও সুখী-সমৃদ্ধ জীবন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষকে সমানভাবে দেখা হয়েছে।
কর্মক্ষেত্রে অধিকার
ইসলামে যেসব কাজ পুরুষের জন্য বৈধ তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীদের জন্যও বৈধ; তবে সর্বক্ষেত্রে নয়। সৃষ্টিগত কারণে, পর্দা রক্ষার প্রয়োজনে, মান-সম্ভ্রম নিরাপদ রেখে যেহেতু সর্বত্র দায়িত্ব পালন করা নারীদের পক্ষে সম্ভব নয়, তাছাড়া মৌলিকভাবে আর্থিক দায়-দায়িত্ব ইসলাম নারীদের ওপর চাপায়নি; পারিবারিক দায়-দায়িত্ব পালনের পর ঘরের-বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের বোঝা থেকে মাতৃজাতিকে নিষ্কৃতিদানই যেহেতু শরিয়তের ইনসাফপূর্ণ আইনের উদ্দেশ্য, সেহেতু ইসলাম একান্ত প্রয়োজন ছাড়া নারীদের বাইরের কর্মে নিয়োগদানে নিরুৎসাহিত করেছে মাত্র, নিষেধ করেনি। যার সমর্থন একটি হাদিস থেকেও পাওয়া যায়। যেমন :
‘মহানবী (সা.) হজরত ফাতেমা (রা.) ও হজরত আলী (রা.)-এর মাঝে যাবতীয় সাংসারিক কর্মবণ্টন করে দিয়েছেন। হজরত ফাতেমাকে গৃহাভ্যন্তরের কাজ এবং হজরত আলীকে ঘরের বাইরের কর্মের দায়িত্ব প্রদান করেছেন।’ (বাদায়েউছ ছানায়ে, খ. ৪, পৃ. ৪৫, যাকারিয়া বুক ডিপো, দেওবন্দ, ভারত)।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে : ‘এবং তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে।’ (সুরা আহজাব : ৩৩)। অর্থাৎ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হবে না। পক্ষান্তরে যেসব নারী বাস্তব পরিস্থিতির শিকার হয়ে চাকরি বা কর্মের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েন, তাদের জন্য হানাফি মাজহাবের আইন গবেষক ইমামরাও এ মর্মে অভিমত দিয়েছেন যে, ‘নারী শ্রম বিনিয়োগের চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারবে।’ (বাদায়েউছ ছানায়ে: প্রাগুক্ত: আল্লামা কাছানী রহ.)।
বাদায়েউছ ছানায়ে গ্রন্থের গ্রন্থকার বলছেন : ‘যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে গৃহস্থালি কর্মসম্পাদনের জন্য মাসোহারা ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়, তা হলে সেটি আইনসঙ্গত ও বৈধ হবে না। কারণ, স্ত্রী হিসেবে গৃহাভ্যন্তরের কার্যাবলি সম্পাদন করা স্ত্রীর প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব।’
একই অধ্যায়ে গ্রন্থকার পরবর্তী পৃষ্ঠায় বলেছেন : ‘স্ত্রী যদি স্বামীকে গৃহাভ্যন্তরীণ কাজের জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়, তা হলে সেটি জায়েজ আছে। কেননা, গৃহাভ্যন্তরীণ কর্মসম্পাদন করা আইনত স্বামীর ওপর ওয়াজিব নয়।’ তাই সেখানে তিনি পারিশ্রমিক নিতে পারেন বা দাবি করতে পারেন।
মোটকথা এসব প্রসঙ্গ দ্বারা আমাদের বোঝানো উদ্দেশ্য হচ্ছে, মৌলিক বিবেচনায় নারীদের কর্মস্থল গৃহাভ্যন্তরীণকেন্দ্রিক এবং পুরুষদের কর্মস্থল বাইরের তথা অফিস-আদালত, রাস্তাঘাট ও ক্ষেত-খামারকেন্দ্রিক। কিন্তু প্রয়োজন ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বিধান মোতাবেক তারা পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করে বাইরের কাজকর্মও করতে পারেন। চাকরি করতে পারেন।
বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন
তৃতীয় ভাগ : ইসলামিক ফাউন্ডেশন গবেষণা-৫১; সংস্করণ : জানুয়ারি-২০০১ গ্রন্থে বলা হয়েছেÑ
‘প্রত্যেক নারীর স্বাধীনভাবে কাজ করিবার অধিকার রহিয়াছে।’ (পৃ. ১৭২-৮৫১)।
‘কোনো নারীর অপর কোনো নারী বা পুরুষের সহিত শ্রম চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া বৈধ, তবে কোনো পুরুষের সহিত একা শ্রম প্রদানের চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া মাকরুহ।’ (পৃ. ৮৩)।
‘কর্মচারী বলিতে সরকারি চাকুরিতে নিয়োজিত নারী, পুরুষ, মুসলিম, অমুসলিম সকলকে বুঝাইবে।’ (ধারা ৯৯৬, পৃ. ৬৬)।
‘নারী চিকিৎসা পেশা গ্রহণ করিতে পারিবে।’ (পৃ. ১৭৭-৮৮০)।
‘নারী মসজিদের খেদমত করিতে পারিবে।’ (পৃ. ১৭৯-৮৯৬)।
‘নারী ফাতওয়া প্রচার করিতে পারিবে।’ (পৃ. ১৮২-৯২৩)।
‘নারী নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষাদান কর্মে অংশগ্রহণ করিতে পারিবে।’ (পৃ. ১৮৩-৯২৬)।
‘নারী সামরিক ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ লাভ করিতে পারিবে।’ (পৃ. ১৮৪-৯৩৫)।
‘নারী আইন সভার সদস্য হিসেবে মনোনয়ন লাভ করিতে পারিবে।’ (পৃ. ১৮৪-৯৩৯)।
‘নারী নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে নিয়োগ লাভ করিতে এবং আত্মরক্ষার্থে নিজের সহিত অস্ত্র রাখিতে পারিবে।’ (পৃ. ১৮৬-৮৭৮)।
‘নারী সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করিতে পারিবে।’ (পৃ. ১৮৮-৯৬৮)।
‘মহিলাকে বিচারক নিযুক্ত করা যায়। তবে ‘হুদুদ’ ও ‘কিসাস’-এর ফয়সালা মহিলা বিচারক দিতে পারবেন না।’ (পৃ. ৪০, খ-২, ইসলামি আইন ও আইন বিজ্ঞান, অধ্যায় : আদাবুল কাযী, বাদায়েউছ ছানায়ে ও ফাতহুল কাদীর-এর বরাতে)।
নারীর কর্মের অধিকার
কেউ কেউ আল-কোরআনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এমন ধারণা দিয়ে থাকেন যে, ইসলাম মেয়েদের কর্মক্ষেত্রে শুধু গৃহ এবং পারিবারিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। অথচ এমন ধারণা যে ভারসাম্যহীন, তা নিম্নের কয়েকটি দলিল-প্রমাণ থেকে বোঝা যায়। যেমন :
১. ‘মহান আল্লাহ তোমাদের কাউকে অপরের তুলনায় বেশি বা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার প্রতি লোভ করো না। পুরুষ যা অর্জন করে, সে মতে তা তাদের প্রাপ্য বা নির্দিষ্ট অংশ এবং নারীরা যা অর্জন করে সে অনুযায়ী তাও তাদের প্রাপ্য বা নির্দিষ্ট অংশ। আল্লাহর কাছে তাঁর দয়া প্রার্থনা কর। নিশ্চয় মহান আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞাত।’ (সুরা নিসা : ৩২)।
২. একদা এক তালাকপ্রাপ্ত মহিলা কর্মের প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে লোকেরা তাকে গালমন্দ করলেন। মহিলা মহানবী (সা.)-এর কাছে বিষয়টি জানালে প্রিয়নবী (সা.) তাকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করেন এবং প্রাসঙ্গিকভাবে বলেন, মহিলাটি তার অর্থনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে পারলে তার প্রয়োজনও পুরো হবে, সৎকাজে ব্যয়ও করতে পারবে এবং মর্যাদার সঙ্গে বসবাসও করতে পারবে। (মুসলিম : তালাক অধ্যায়)।
৩. আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.)-এর বড় বোন, হজরত আবু বকর (রা.) এর বড় মেয়ে হজরত আসমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নিজে ৯ মাইল হেঁটে কর্মক্ষেত্রে যেতেন। আবার শুকনো খেজুরের বিচির বোঝা বহন করে ৯ মাইল পথ হেঁটে ফিরে আসতেন। অথচ তিনি ছিলেন হজরত যুবায়ের (রা.) এর স্ত্রী! (বোখারি : বিবাহ অধ্যায়)।
উপরোক্ত আয়াত ও হাদিসগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, নারীরা প্রয়োজনে নিজ জীবিকা অর্জন এবং উৎপাদনমুখী কর্মে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এটি নারীর আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার এবং এসব কর্মের মাধ্যমে নারী নিজ মানবসত্তাকে পরিপূর্ণরূপে বিকশিত করতে পারবে।
সমাজে পারস্পরিক দায়-দায়িত্ব ও কর্মকা-ের পার্থক্যের কারণে কতগুলো কর্তব্য স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের জন্য শরিয়ত অবশ্যই পালনীয় করে দিয়েছে। আর কতগুলো শুধু মেয়েদের জন্য এবং কতগুলো শুধু পুরুষদের জন্য অবশ্যই পালনীয় করে দিয়েছে। যেমন : নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজ স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের জন্য ফরজ, আর যুদ্ধে অংশগ্রহণ পুরুষের জন্য ফরজ বা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অবশ্য নারীর জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ বৈধ, তবে বাধ্যতামূলক নয়। আবার সন্তান লালন-পালন বা গৃহব্যবস্থাপনার কাজগুলো নারীদের জন্য অবশ্য পালনীয় করা হয়েছে। নারী-পুরুষের এই সামাজিক পার্থক্যের ভূমিকা নিজ নিজ প্রাকৃতিক তথা সৃষ্টিগত প্রবণতা, শারীরিক ও মানসিক গঠনের পার্থক্যের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাউকে খাটো বা উপেক্ষা করা হয়নি।
অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় পর্দা
পবিত্র কোরআনে নারীদের পর্দায় থাকতে বলা হয়েছে। মহানবী (সা.)-ও নারীদের পর্দায় থাকতে বলেছেন। এই পর্দার অর্থ অবরোধ নয়। পর্দা মানে নারীদের গৃহের চারদেয়ালের মধ্যে অন্তরীণ রাখাও নয়। ইসলামে পর্দার অর্থ নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বন্ধ করে সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষা করে আপন আপন কর্মক্ষেত্রে নিরাপদে থাকা, অবস্থান করা। সে কারণে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছেÑ ‘হে নবী! মোমিন পুরুষদের বলে দিন তারা যেন অপর নারী থেকে আপন দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখে... নারীরাও যেন অপর পুরুষ থেকে নিজ দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখে।’ (সুরা নুর : ৩০-৩১)। অপর আয়াতে বলা হয়েছেÑ ‘জাহেলি যুগের নারীদের মতো রূপ-সৌন্দর্যের প্রদর্শনী করে বেড়াবে না।’ (সুরা আহজাব : ৩৩)।
আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছেÑ ‘পরপুরুষের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলবে না যাতে ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের পুরুষরা প্রলুব্ধ হয়ে পড়ে।’ (সুরা আহজাব : ৩২)। আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছেÑ ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মোমিন নারীদের বলে দিন, তারা যেন বাইরে গেলে তাদের শরীর ও মুখম-ল চাদর দ্বারা আবৃত রাখে।’ (সুরা আহজাব : ৬০)।
পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করেই মহানবী (সা.)-এর যুগে নারীরা মসজিদে নামাজ পড়া, যুদ্ধক্ষেত্রে গমন ইত্যাদি কাজে অংশগ্রহণ করতেন। হজরত ওমর (রা.) শিফা নামক এক মহিলা সাহাবিকে বাজার ব্যবস্থাপনায় কতিপয় দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি পর্দা করেই সুষ্ঠুভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সুতরাং প্রয়োজনীয় পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে নারীদের কর্মে নিয়োজিত হতে বা নিয়োগদানে বাধার কিছু নেই।
ইসলাম নারীকে মানবিক সব অধিকার প্রদান করেছে। পুরুষ কোনোক্রমেই নারীর প্রতিপক্ষ নয়। এরা পরস্পর একে অন্যের পরিপূরক। পুরুষ ও নারীর নিজ নিজ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অবদান রাখার দ্বারা কল্যাণকর পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত হয়ে থাকে। জাহেলিয়্যা সমাজ ব্যবস্থায় প্রিয়নবী (সা.) নারীদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় যেখানে সক্ষম হয়েছিলেন, সেখানে একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান আধুনিক যুগে ও সমাজে আমাদের পিছিয়ে থাকার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।
লেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন