কলরব ও হলি টিউনের নির্বাহী ও আলোচিত নাশিদশিল্পী
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)

ইসলামি সংস্কৃতির কিংবদন্তি বিপ্লবী মহাপুরুষ মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)। ১৯৭৭ সালের ১ মার্চ ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানার হাজরাতলা গ্রামে তার জন্ম। ১৯৯৬ সালে মাগুরা সিদ্দিকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ফাজিল ও ২০১২ সালে ঢাকা সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়া থেকে কামিল সম্পন্ন করেন তিনি। আইনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.) সবার কাছে অমর হয়ে আছেন এমন এক বিপ্লবের জন্য, যা ছিল জাহেলি এ সমাজে দুঃসাধ্য ও কণ্টকাকীর্ণ। তিনি সব সময় একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতেন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি দুর্বল ছিলেন। গ্রামের বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালে প্রতিযোগিতায় ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ’ গেয়ে পুরস্কৃত হন। এ ছিল তার জীবনের প্রথম পরিবেশনা। এরপর থেকে তিনি গ্রামের ওয়াজ মাহফিলগুলোতে সংগীত গাইতেন। স্বপ্ন বুনতে লাগলেন সংগীত ও সংগীতের আগামী। মফস্বল ছেড়ে ১৯৯৩ সালে চলে এলেন ঢাকায়। সুরের বেলাল হয়ে গেয়ে উঠলেন নতুন এক বিপ্লবের গান। তিনি তার গানে জাতিকে সব সময় নতুনের স্বপ্ন দেখাতেন। তার গান ছিল অন্যায় ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে। সমাজের অসঙ্গতি দেখে তার অন্তরাত্মা কেঁদে উঠত। সন্ধানী চোখ দুটি খুঁজে ফেরে বারেবার, দেশটা নয়তো কারও বাপের ভিটা, কী হবে বেঁচে থেকে, দুর্নীতিরই আখড়ায় বসে জাহির করে জ্ঞান, বিপ্লব মানে জীবন দেওয়া, আল কোরআনের সৈনিক আমি, পেরিয়ে রক্ত ভেজা পথ, আর কত চাও শহিদ খোদা, শহিদ নামের ওই, কেউ কি আছ জীবন দিতে খোদার পথে, একটি অনুনয় তার উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় নাশিদ। এ ছাড়া দুর্নিবার, অবগাহন, কবর পথের যাত্রী, এলো রমজান, খুঁজি গো তোমায়, শিক্ষিত শয়তান, কী হবে, মানুষ, জনতার আর্তনাদ, বীর মুজাহিদ উসামা, যদি, বুঝে শুনে, বুশের কবর, রক্ত ভেজা পথ, ভোট, তেল, তাই তো, দামামা, বদলে যাবে দিন, যায় যদি যাক প্রাণ, নাঙ্গা তলোয়ার, বন্ধু শিরোনামে তার গানের মোট ২৭টি অ্যালবাম বেরিয়েছে। তারই প্রেরণা আর স্বপ্ন বুকে নিয়ে ইসলামি সংস্কৃতি বিজয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান কলরব। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তারই কলরবের যোগ্য শিষ্য মুফতি সাঈদ আহমাদ, মুহাম্মদ বদরুজ্জামান ও আবু রায়হানের মতো স্বপ্নাতুর উত্তরসূরিরা। ২০১০ সালের ১৮ জুন শুক্রবার এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি শাহাদত বরণ করেন।
মুফতি সাঈদ আহমাদ
জনপ্রিয় নাশিদশিল্পী মুফতি সাঈদ আহমাদ প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই হলি টিউনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ৩১ আগস্ট ১৯৯০ সালে ঢাকার ডেমরায় তার জন্ম। তার গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার গোয়ালবাথানে। তিনি অর্ধশতাধিক নাশিদ গেয়েছেন। সংগীত রচনা, পরিচালনা ও সুর করেছেন শতাধিক। আমি দেখিনি তোমায়, নবিজির দুশমন, ফেইসবুক, কেমন মুসলমান তুমি ও ইশকে নাবী জিন্দাবাদ তার গাওয়া জনপ্রিয় নাশিদ। বাংলাদেশের ইসলামি সংগীত জগতে সর্বজনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন সাঈদ আহমাদ। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে ইসলামি সংগীতের প্রবাদ পুরুষ মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদ (রহ.)-এর সহচর্য পাওয়া মুফতি সাঈদ আহমাদের সম্পৃক্ততা হলি টিউনকে এগিয়ে যেতে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছে। হলি টিউনের পরিচালক হিসেবেও তিনি যথেষ্ট অবদান রেখে আসছেন।
মুহাম্মদ বদরুজ্জামান
ইসলামি সংগীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া জনপ্রিয় নাশিদশিল্পী মুহাম্মদ বদরুজ্জামান হলি টিউনের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪ সালে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার বাঁশগাড়ি চরমেঘনা গ্রামে তার জন্ম। প্রায় ত্রিশোর্ধ ইসলামি সংগীত গেয়েছেন তিনি। সুর করেছেন অর্ধশতাধিক। সংগীত লিখেছেন ১৫টির মতো। সংগীত পরিচালনা করেছেন অর্ধশতাধিক। মালিকরে ভুলিয়া, হাসবি রাব্বি জাল্লাল্লাহ, রমাদান, ইকরা, চলার পথে ও আজব টাকা তার গাওয়া জনপ্রিয় নাশিদ। তিনি প্রায় দুই দশক ধরে ইসলামি সংগীতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার গাওয়া অনেক সংগীত দেশব্যাপী বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ছাড়াও হলি টিউনের প্রধান উদ্যোক্তা কার্যক্রম তার হাত ধরে শুরু হয়। তার সাংগঠনিক গোছালো চিন্তা এবং ইসলামি সংগীতকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা হলি টিউনের পথচলাকে মসৃণ করেছে। তিনি কলরবেরও যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। ইসলামি সংগীতাঙ্গনে বাংলাদেশের একজন সর্বপরিচিত নাম হিসেবে বিশেষভাবে অগ্রগণ্য হয়ে আছেন।
আবু রায়হান
শৈশব থেকেই কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর মাধ্যমে ইসলামি সংগীতের জনপ্রিয় মুখ আবু রায়হান। মিছে জীবন ও অচিন পাখি তার জনপ্রিয় সংগীত অ্যালবাম। ১৯৯৫ সালের ২৫ ডিসেম্বরে কুড়িগ্রামের উলিপুরের ভদ্রপাড়ায় তার জন্ম। তিনি তার সংগীতজীবনে ১০টি নাশিদ লিখেছেন। সুর করেছেন ২০টি। নাশিদ গেয়েছেন শতাধিক। আল্লাহ আল্লাহ, আমি চাই না বাঁচতে, জানাজা, কোরআন, সফর তার গাওয়া আলোচিত নাশিদ। তিনি হলি টিউনের শুরুর সময় থেকেই দায়িত্বশীল হিসেবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। হলি টিউনে তার গাওয়া বেশ কিছু সংগীত শ্রোতামহলে অনেক সমাদৃত হয়।
আহমদ আবদুল্লাহ
কলরবের সিনিয়র শিল্পী ও জনপ্রিয় সুরকার হিসেবে আহমদ আবদুল্লাহর রয়েছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা। সিলেট জেলার জকিগঞ্জে তার জন্ম। তার লেখা ও সুর করা নাশিদ শতাধিক। তার গাওয়া সংগীত ২০টির মতো। জাযাকাল্লাহ, সালাত, সালাম, আফসোস, ভাইরাল এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংগীত। হলি টিউনে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি দেশব্যাপী বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ক্যারিয়ার হিসেবে ইসলামি সংগীতের জনপ্রিয় সুরকার হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সারা দেশে।
মাহফুজুল আলম (রহ.)
হলি টিউন ও কলরবের একটি সুপরিচিত নাম মাহফুজুল আলম। শিশুশিল্পী থেকে উঠে আসা মাহফুজুল আলম সংগীতশিল্পী হিসেবে যেভাবে জনপ্রিয় ছিলেন, তেমনিভাবে হলি টিউনের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেও নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছিলেন। প্রায় ১০ বছরের সংগীতজীবনে মাহফুজের অবদান ছিল অনেক বেশি। ১৯৯৮ সালের ১১ জানুয়ারি নরসিংদীর মাধবদীতে তার জন্ম। তার গাওয়া নাশিদ প্রায় ৩০টির মতো। হৃদয় মাঝে মালা গাঁথি, আমি চাই না বাঁচতে, ক্লান্ত হৃদয় ও প্রিয় বাবা তার গাওয়া জনপ্রিয় সংগীত। এ ছাড়াও তার হাতে কলরবের প্রায় অর্ধশতাধিক নাশিদ তৈরি হয়েছে। খুব অল্প বয়সে মাহফুজ ২০২১ সালের জুলাই মাসের ২০ তারিখে ইন্তেকাল করেন।
তাওহীদ জামিল
কলরবের তরুণ শিল্পী তাওহীদ জামিল হলি টিউনের জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার ভরতেরকান্দি গ্রামে তার জন্ম। তার লেখা ও সুর করা নাশিদ ১০টির মতো। গেয়েছেন ২০টি সংগীত। হৃদয় মাঝে মালা গাঁথি, লাশ, প্রিয় রাসুল আমার, ওগো কামলিওয়ালা তার গাওয়া জনপ্রিয় নাশিদ। তার গাওয়া বেশ কিছু নাশিদ কোটি দর্শকের ভিউ পেয়েছে। ক্যারিয়ারে ইসলামি সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি আরও সমৃদ্ধ হচ্ছেন হলি টিউনের মাধ্যমে।
